সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি

হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

সারাদেশ

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে আছে। প্রাচীন স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের সাক্ষী

2026-08-19T12:20:00+00:00
2026-08-19T12:23:03+00:00
 
  বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬,
৪ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
সংস্কারের অভাবে জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি
হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২০ পিএম  আপডেট: ১৯.০৮.২০২৬ ১২:২৩ পিএম
গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি। ছবি : সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নে অবস্থিত ঐতিহাসিক গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি দীর্ঘদিন ধরে অযত্নে পড়ে আছে। প্রাচীন স্থাপত্য ও ঐতিহ্যের সাক্ষী এই জমিদার বাড়ি দেখতে দেশি-বিদেশি পর্যটক, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আসেন। তবে, সংস্কারের অভাবে স্থাপনাটি দিন দিন জরাজীর্ণ হয়ে পড়ছে।

ভারতীয় উপমহাদেশে মুঘল আমল থেকে ব্রিটিশ শাসনামল পর্যন্ত জমিদারি প্রথা চালু ছিল। সে সময় জমিদারদের বসতবাড়ি সাধারণ মানুষের কাছে জমিদার বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পায়। কিশোরগঞ্জের গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়িও সেই সময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন।

জমিদার বাড়ির প্রবেশদ্বার। ছবি : সময়ের আলো

জমিদার বাড়ির প্রবেশদ্বার। ছবি : সময়ের আলো


জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত হলেও গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ি এখনো প্রাচীন সভ্যতা ও স্থাপত্যের স্মৃতি বহন করছে। বাড়িটির বিভিন্ন স্থাপনায় রয়েছে চমৎকার কারুকাজ। সামনে রয়েছে সুবিশাল পুকুর ও বিস্তীর্ণ মাঠ। এছাড়া নহবতখানা, দরবারগৃহ ও মন্দির স্থাপনাটির অন্যতম আকর্ষণ।

স্থানীয়রা জানান, জমিদার বাড়িটি দেখতে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এর বিভিন্ন স্থাপনা জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বাড়িটি সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন করা হলে, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

পর্যটক মো. সাগর মিয়া বলেন, ‘জমিদার বাড়িটি অনেক পুরনো। এর সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। প্রতিদিন এটি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসেন।’ তিনি ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংস্কার করে দৃষ্টিনন্দন করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।

জমিদার পরিবারের সদস্য মানবেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী (মানব বাবু) বলেন, ‘বর্তমানে জমিদার বাড়ি নেই বললেই চলে। যদিও থেকে থাকে, তাহলে ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে দর্শনার্থীদের মনের খোরাক ছাড়া কিছু না।’

মানবেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। ছবি : সময়ের আলো

মানবেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী। ছবি : সময়ের আলো


তিনি বলেন, ‘১৯৭৪ সালের দিকে আমি উপজেলা চেয়ারম্যান ছিলাম। এখন অনেক বয়স হয়েছে। বয়সের ভারে নিজের ভিটামাটিও ভালোভাবে দেখতে পারি না। মানুষের কল্যাণে কাজ করে শেষ নিঃশ্বাসটুকু এই জমিদার বাড়িতেই ত্যাগ করতে চাই।’

জানা যায়, খ্রিস্টীয় ষোড়শ শতাব্দীর দিকে গাঙ্গাটিয়া জমিদার বংশের পূর্বপুরুষরা ভারতের উত্তর প্রদেশ থেকে এসে এ এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। তৎকালীন গৌড়ীয় রীতি অনুযায়ী বাড়ির পতিত ভিটায় পূজা-অর্চনার জন্য একটি শিবমন্দির নির্মাণ করা হয়। মন্দিরটি এখনো ওই বংশের প্রথম নির্মিত মন্দির হিসেবে টিকে আছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঐতিহাসিক স্থাপনাটির গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে গাঙ্গাটিয়া জমিদার বাড়ির ঐতিহ্য রক্ষার পাশাপাশি পর্যটনেরও বিকাশ ঘটবে।

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   সংস্কার  জরাজীর্ণ  গাঙ্গাটিয়া  জমিদার বাড়ি  কিশোরগঞ্জ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: