ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এমন অবস্থায় যুদ্ধের পর উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার করা হবে কি না, তা পর্যালোচনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলের বড় মার্কিন ঘাঁটিগুলোর ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় এ বিষয়টি বিবেচনা করছে পেন্টাগন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অব ওয়ার-এর নীতি দফতর এই মূল্যায়নের নেতৃত্ব দিচ্ছে। কর্মকর্তারা যুদ্ধটিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি নতুন করে মূল্যায়নের জন্য ‘এক প্রজন্মে একবার আসা সুযোগ’ হিসেবে দেখছেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটিগুলো পুনর্নির্মাণ (যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায়) নাও করা হতে পারে।
সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারাও দীর্ঘদিন ধরে উপসাগর থেকে মার্কিন সেনা কমানোর সম্ভাবনার কথা বলে আসছেন। সাবেক সিআইএ প্রধান ও সেন্টকমের কমান্ডার ডেভিড পেট্রিয়াস বলেছেন, ইরানের হামলায় এসব ঘাঁটির ঝুঁকি প্রকাশ পাওয়ায় সেখানে মার্কিন সেনা মোতায়েন রাখার আগ্রহ কমেছে।
সাবেক সেন্টকম প্রধান জেনারেল ফ্র্যাঙ্ক ম্যাকেঞ্জিও বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন থেকে মার্কিন সম্পদকে আরও ভালোভাবে সুরক্ষিত রাখতে উপসাগরীয় ঘাঁটিগুলো ইসরায়েল ও আশপাশের দেশগুলোতে সরিয়ে নেওয়া উচিত।
বর্তমান সেন্টকম প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাডলি কুপারও উপসাগর থেকে মার্কিন সেনাদের পশ্চিম দিকে সরিয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনাকে সমর্থন করছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
চলমান যুদ্ধে বাহরাইন, কাতার, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইরান। ফলে ইরানের কাছাকাছি উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ চলাকালেই উপসাগরীয় উপকূল থেকে কিছুটা পশ্চিম দিকে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি সরিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। মার্চে ইরানের হামলায় রিয়াদের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমানঘাঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সৌদি আরবের তায়েফ বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ