টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে পাঁচ দিন বয়সী যমজ দুই মেয়ে সন্তানকে রেখে উধাও হয়েছেন মারিয়া নামে এক নারী। বর্তমানে শিশুদুটির বেঁচে থাকা নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে টাঙ্গাইলের ঘাটাইল পৌর শহরের ধারিয়াল গ্রামে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নবজাতক দুই শিশুর নাম রাখা হয়েছে মাহা ও মানহা।
জানা যায়, গত ১৩ আগস্ট স্থানীয় হাজী খোরশেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে যমজ দুই মেয়ে সন্তান প্রসব করেন মারিয়া। পরে দুই সন্তানসহ মারিয়াকে নিজ বাড়ি ধারিয়ালে নিয়ে আসেন সাকিব। এরপর গত ১৭ আগস্ট রাত থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে নবজাতক দুই সন্তানকে বাড়িতে একা রেখে নিরুদ্দেশ হয়ে যান মারিয়া। এখনও মা ফিরে না আসায় নবজাতক দুটির বেঁচে থাকা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, আড়াই বছর আগে ঘাটাইল পৌর এলাকার ব্যবসায়ী ময়েন উদ্দিনের মেয়ে মারিয়ার সঙ্গে ধারিয়াল এলাকার সোলায়মান হোসেনের ছেলে সাকিবের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তখন সাকিবের বয়স ছিল ১৭ বছর এবং মারিয়ার ১৫ বছর।
অসম এই বাল্যবিবাহ উভয় পরিবারের সদস্যরা মেনে না নেওয়ায় একপর্যায়ে তারা পালিয়ে যান। পরবর্তীতে সাকিবের পরিবার বিয়ে মেনে নিয়ে তাদের ঘরে তুলে নেন।
নবজাতকদের বাবা সাকিব হোসেন বলেন, ‘মারিয়া কোথায় চলে গেছে, তা আমি জানি না। নবজাতক দুটিকে বাঁচাতে মায়ের খুবই প্রয়োজন। আমাদের বিয়ের বিষয়টি শ্বশুর-শাশুড়ি মেনে নেয়নি। তাদের প্ররোচনায় এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।’
এ বিষয়ে ঘাটাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোকছেদুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। শিশুদুটির মাকে খুঁজে বের করে তাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/এসএকে