কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ১৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাতভর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এ হামলায়

2026-08-21T10:55:24+00:00
2026-08-21T10:55:24+00:00
 
  শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬,
৬ ভাদ্র ১৪৩৩
শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ১৬
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২১ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় রাতভর ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এ হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত এবং প্রায় ৪০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ইউক্রেনের কর্মকর্তারা।

বৃহস্পতিবার রাত থেকে কিয়েভজুড়ে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ভোর পর্যন্ত বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, দেশজুড়ে ২৮টি স্থানে হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

হামলায় ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি জেটচালিত ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এটিকে ‘ব্যাপক হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোয় সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি ঘটানোর লক্ষ্যেই রাশিয়া বিভিন্ন ধরনের ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন একসঙ্গে ব্যবহার করেছে।

কিয়েভের দারনিতস্কি, সোলোমিয়ানস্কি ও স্ভিয়াতোশিনস্কি জেলায় ১২টি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৩০টি আবাসিক ভবন, একটি স্কুল, একটি শিশু হাসপাতাল ও একটি কিন্ডারগার্টেন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সোলোমিয়ানস্কি এলাকায় নয়তলা একটি আবাসিক ভবনের ওপরের দুটি তলা ধ্বংস হয়ে যায়। কয়েকটি ভবন ও একটি স্কুলের আশ্রয়কেন্দ্রেও মানুষ আটকা পড়েন।

হামলার সময় নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কিয়েভের মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে দুই হাজারেরও বেশি শিশু ছিল বলে জানিয়েছে মেট্রো কর্তৃপক্ষ।

হামলার সময় কিয়েভ সফরে থাকা মার্কিন অভিনেতা লিভ শ্রাইবারও একটি হাসপাতালে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। তিনি ইউক্রেনের স্বাধীনতা দিবস সামনে রেখে দেশটিতে গিয়েছিলেন এবং রুশ হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করছিলেন।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভে এমন একটি শিল্প স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে যেখানে ‘ফ্লামিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ তৈরি করা হচ্ছিল। এ ছাড়া ড্রোন উৎপাদন ও সংরক্ষণকেন্দ্র, একটি গোলাবারুদ গুদাম এবং একটি সরবরাহকেন্দ্রেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো।

ইউক্রেনের গোয়েন্দা সংস্থার বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, রাশিয়া প্রতি মাসে ২০০টির বেশি ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে পারে। তাদের দাবি, রাশিয়ার মজুত রয়েছে ১ হাজার ১০০টির বেশি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ১৩০টি ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। তবে এসব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, তাতারস্তানের নিজনেকামস্কের একটি তেল শোধনাগার এবং ক্রাসনোদার অঞ্চলের তামাননেফতেগাজ তেল টার্মিনালে হামলা চালানো হয়েছে। দুটি স্থাপনাতেই আগুন লাগার খবর পাওয়া গেছে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাতভর দেশটির বিভিন্ন অঞ্চল, দখলকৃত ক্রিমিয়া এবং কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরের ওপর দিয়ে ৭২৬টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এটি যুদ্ধ শুরুর পর ইউক্রেনের অন্যতম বড় আকাশ হামলা বলেও দাবি করেছে মস্কো।

পোল্যান্ডের সামরিক বাহিনী বিমান অভিযান, স্থলভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং রাডার নজরদারি সক্রিয় করে। পোল্যান্ড ও অন্যান্য ন্যাটো দেশের সামরিক বিমানও আকাশসীমা পর্যবেক্ষণে মোতায়েন করা হয়।

রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে জনবসতিহীন এলাকায় একটি অজ্ঞাত ড্রোন বিধ্বস্ত হয়ে আগুন ধরে যায়। সীমান্তের কাছে আকাশপথে সন্দেহজনক লক্ষ্য শনাক্ত হওয়ার পর রোমানিয়ায় মোতায়েন দুটি স্প্যানিশ এফ-১৮ যুদ্ধবিমানও আকাশে ওঠে।

এ ছাড়া কৃষ্ণসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস প্রকল্পের কাছে একটি নৌ ড্রোন শনাক্ত হওয়ার পর দুটি রোমানিয়ান এফ-১৬ যুদ্ধবিমান সেটি ধ্বংস করতে মোতায়েন করা হয়।

ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ক্রমেই ন্যাটো ও তাদের অংশীদারদের প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করছে এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের মাধ্যমে যুদ্ধের ঝুঁকি ইউক্রেনের সীমানার বাইরেও ছড়িয়ে দিচ্ছে।

ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনও ইউরোপের জন্য বিস্তৃত হুমকির কথা উল্লেখ করে বলেছেন, হুমকি বাড়ানোর একটি অভিযান চলছে, যা ইউরোপের নাগরিকদের উদ্বিগ্ন করে তুলছে এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিয়েভে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বেড়েছে। এর অন্যতম কারণ ইউক্রেনের মার্কিন নির্মিত প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি। এসব ক্ষেপণাস্ত্রই ইউক্রেনের হাতে থাকা প্রধান ব্যবস্থা, যা রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম।


সময়ের আলো/কেএইচ


  বিষয়:   সময়ের আলো  কিয়েভ  রাশিয়া  হামলা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: