বছরের পর বছর মেঘনার ভাঙনে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের কমলনগর ও রামগতি উপজেলার উপকূলীয় মানুষ। বর্ষা এলেই অনেক পরিবারকে ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে হতো। মেঘনার ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বসতভিটা, বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ বিস্তীর্ণ কৃষিজমি।
তবে সেই আতঙ্ক এখন অনেকটাই কমেছে। মেঘনার ভাঙন রোধে প্রায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার মেগা প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন দুই উপজেলার লাখো মানুষ। নদীতীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ ও ব্লক স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। এতে রক্ষা পাচ্ছে জনবসতি, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও কৃষিজমি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, কমলনগর ও রামগতিকে মেঘনার ভাঙন থেকে রক্ষায় ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ৯৯টি প্যাকেজে ভাগ করে বাঁধ নির্মাণ ও ব্লক স্থাপনের কাজ চলছে। এরই মধ্যে প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি কাজও দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় নদীতীর রক্ষায় টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। কাজের মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকিও করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এরই মধ্যে প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে এর সুফল দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।
নদীভাঙনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে রামগতির চরআবদুল্লাহ, চরগাজী, চররমিজ ও বড়খেরী এবং কমলনগরের চরকালকিনি, সাহেবেরহাট, চরফলকন, চরমার্টিন, চরলরেন্স ও পাটারীরহাট ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা। এসব এলাকার বড় একটি অংশ অতীতে মেঘনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, আগে বর্ষা এলেই নদীভাঙনের আতঙ্কে দিন কাটত। কখন বাড়িঘর নদীতে চলে যায়, সেই দুশ্চিন্তায় অনেক পরিবার আগেভাগেই ঘরবাড়ি সরিয়ে নিত। এখন নদীতীর রক্ষা বাঁধ ও ব্লক স্থাপনের কারণে সেই পরিস্থিতি অনেকটাই বদলে গেছে।
এদিকে দুই উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের উদ্যোগে ভুলুয়া নদী পরিষ্কারের কাজও স্থানীয়দের স্বস্তি বাড়িয়েছে। নদী ও খালগুলোর পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হওয়ায় জনজীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
নদীভাঙনের আতঙ্ক কমে যাওয়ায় বদলাচ্ছে স্থানীয়দের ভাবনাও। একসময় যেখানে বসতভিটা টিকিয়ে রাখাই ছিল বড় চ্যালেঞ্জ, সেখানে এখন ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাহিদ উজ জামান খান বলেন, প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ৩০ শতাংশ কাজ শেষ হলে কমলনগর ও রামগতির উপকূলীয় এলাকাগুলো নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে অনেকটাই সুরক্ষিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দীর্ঘদিনের নদীভাঙনের ক্ষত একেবারে মুছে যেতে সময় লাগলেও, মেঘনার তীরে নির্মাণাধীন প্রতিরক্ষা বাঁধ এখন উপকূলবাসীর কাছে নতুন আশার প্রতীক। একসময় যে নদী ছিল আতঙ্কের নাম, সেই নদীর তীরেই এখন নিরাপদ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় মানুষ।
সময়ের আলো/এসএকে