গরুর মাংসের দাম কমাতে সাময়িকভাবে আমদানি শুল্ক কমানোর উদ্যোগ নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছেন দেশটির গবাদিপশু উৎপাদকরা। তাদের আশঙ্কা, এতে যুক্তরাষ্ট্রে গরুর পাল পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হবে।
শুক্রবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে সই করবেন। এর আওতায় ৯০ দিনের জন্য অতিরিক্ত ৩ লাখ মেট্রিক টন গরুর মাংস কম শুল্কে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সুযোগ পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রে নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে ভোক্তাদের চাপের মধ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। ট্রাম্প এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, আমদানি করা মাংস বর্তমান বাজারদরের চেয়ে ২৫ শতাংশ কম দামে বিক্রির বিষয়ে একটি ‘প্রতিশ্রুতি’ পাওয়া গেছে।
তবে কোন কোন দেশ থেকে এই মাংস আমদানি করা হবে বা রপ্তানিকারকরা দাম কমাবে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি হোয়াইট হাউস।
ট্রাম্প বলেন, এই উদ্যোগে মার্কিন নাগরিকদের জন্য গরুর মাংসের দাম কমবে এবং একই সঙ্গে দেশের গবাদিপশুর পাল পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হবে।
তবে মার্কিন গবাদিপশু উৎপাদকদের সবচেয়ে বড় সংগঠন ন্যাশনাল ক্যাটলমেন’স বিফ অ্যাসোসিয়েশন এই পরিকল্পনার বিরোধিতা করেছে। সংগঠনটির প্রধান কলিন উডাল বলেন, বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে সরকারি সহায়তায় বিপুল পরিমাণ গরুর মাংস বাজারে ঢোকানো হলে গবাদিপশুর পাল পুনর্গঠনের বদলে কৃষক ও খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
ইউনাইটেড স্টেটস ক্যাটলমেন’স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জাস্টিন টাপারও বলেন, মার্কিন গবাদিপশু উৎপাদকদের পিছনে ফেলে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি বাস্তবায়ন করা যায় না। তার মতে, এই সিদ্ধান্ত বাজারকে দুর্বল করার পাশাপাশি খাদ্যনিরাপত্তা নিয়েও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বড় রাজনৈতিক ইস্যু হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গরুর মাংসের দাম প্রায় রেকর্ড উচ্চতায় রয়েছে।
দীর্ঘ কয়েক বছরের খরার কারণে চারণভূমি ক্ষতিগ্রস্ত ও পশুখাদ্যের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় মার্কিন খামারিরা গবাদিপশুর পাল ছোট করে দিয়েছেন। ফলে দেশটির গরুর সংখ্যা ৭৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।
এদিকে গত বছর মেক্সিকো থেকে গবাদিপশু আমদানি স্থগিত করায় সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হয়েছে। গবাদিপশুতে সংক্রমিত মাংসখেকো এক ধরনের পোকার উত্তরমুখী বিস্তার ঠেকাতে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
গরুর দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানাও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের ঘোষণার পর শুক্রবার শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জে গবাদিপশুর ভবিষ্যৎ বাজারদর আট মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে যায়।
তবে অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের অনেকে মনে করছেন, ৯০ দিনে ৩ লাখ টন মাংস আমদানির সুযোগ মার্কিন বাজারে দামে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে না। কারণ, এই পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের মোট গরুর মাংসের চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।
বাজার বিশ্লেষক ড্যান নরসিনি বলেন, এটি ‘সমুদ্রে এক ফোঁটা পানির মতো’। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রে গবাদিপশুর সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়াই মূল সমস্যা, আর সেটি সমাধানে সময় ও বাজারের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে।
সময়ের আলো/কেএইচ