চলতি বছরের মে মাসের শুরু থেকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সহায়তা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এসব জাহাজের মাধ্যমে ৬৬ কোটি ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সেন্টকম জানায়, গত তিন সপ্তাহে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রায় ১৬ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হয়েছে। অর্থাৎ এই সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে। তবে সংঘাত শুরুর আগে হরমুজ প্রণালী দিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহন হতো। ফলে বর্তমান প্রবাহ এখনো আগের তুলনায় অনেক কম।
সেন্টকমের মুখপাত্র মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য একাধিক পথ এখনো উন্মুক্ত ও নিরাপদ রয়েছে।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের শুরুতে প্রায় ৮০০টি জাহাজকে চলাচলে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল এবং তখন পরিবহন হয়েছিল প্রায় ৩৮ কোটি ব্যারেল তেল। জুলাইয়ের শেষ দিকে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার জাহাজ ও ৫০ কোটি ব্যারেল তেলে।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও তীব্র হয়। এর জবাবে ইরান বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালায়। এতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইরানের বন্দরগুলোকে লক্ষ্য করে নৌ অবরোধ চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়— এমন বাণিজ্যিক জাহাজের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পাহারা ও নিরাপত্তা দিচ্ছে মার্কিন বাহিনী।
মূলত ওমানের উপকূলসংলগ্ন দক্ষিণ করিডোর দিয়ে এসব জাহাজকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। অনেক জাহাজ রাতের বেলায় চলাচল করছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ রেখেও যাত্রা করছে। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও হেলিকপ্টার এসব জাহাজকে ইরানি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও ছোট নৌযানের সম্ভাব্য হামলা থেকে সুরক্ষা দিচ্ছে। তবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও কয়েকটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল পরিবহনের পরিমাণ নিয়ে মার্কিন সরকারি হিসাবের সঙ্গে বেসরকারি পর্যবেক্ষকদের তথ্যে পার্থক্য রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক কিছু হিসাবে প্রতিদিন ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত তেল পরিবহনের কথা বলা হয়েছে। তবে উইন্ডওয়ার্ড ও কেপলারের মতো সামুদ্রিক পরিবহন পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর হিসাবে মে মাসে হরমুজ দিয়ে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি হয়েছে গড়ে প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল প্রতিদিন। জুনে তা বেড়ে প্রায় ৪০ লাখ এবং জুলাইয়ে প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেলে পৌঁছায়।
পর্যবেক্ষকদের মতে, অনেক জাহাজ অবস্থান শনাক্তকারী ব্যবস্থা বন্ধ রেখে চলাচল করায় প্রকৃত পরিবহনের পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন।
হরমুজ প্রণালীর ওপর চাপ কমাতে সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের হাবশান-ফুজাইরাহ পাইপলাইনও ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব বিকল্প পথ, বিভিন্ন দেশের মজুত থেকে তেল ছাড়ার সিদ্ধান্ত এবং উৎপাদন সমন্বয়ের কারণে বৈশ্বিক বাজারে বড় ধরনের সরবরাহ সংকট কিছুটা ঠেকানো সম্ভব হয়েছে।
তবে মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ এখনো সংঘাত-পূর্ব সময়ের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। সেন্টকমের সর্বশেষ তথ্য প্রকাশের সময় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৯৫ ডলারের কাছাকাছি ছিল।
সময়ের আলো/কেএইচ
সময়ের আলো/কেএইচ