ভারতের কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেল শিখা ইনে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাংবাদিক দেবাশীষ দত্তসহ ছয় বাংলাদেশির মরদেহ শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে পাঁচজনের মরদেহ যশোরের বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এবং একজনের মরদেহ সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে আনা হবে।
পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নিহত দেবাশীষ দত্ত ও তার পরিবারের সদস্যদের শেষকৃত্য ও দাফন পৃথক ধর্মীয় রীতিতে সম্পন্ন হবে।
দেবাশীষ দত্ত ও তার শিশু সন্তান স্বর্ণশীষের সৎকার করা হবে। শনিবার রাত ৮টার দিকে কুষ্টিয়া মহাশ্মশানে তাদের সৎকারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
দেবাশীষের স্ত্রী আফসানা শারমীন ও শ্বশুর আকরাম হোসেনের মরদেহ প্রথমে দেবাশীষের বাড়ির সামনে এবং পরে কুষ্টিয়া শহরের থানাপাড়া এলাকায় আফসানার বাবার বাড়িতে নেওয়া হবে। এরপর কুষ্টিয়া পৌর কবরস্থানে ইসলাম ধর্মানুসারে বাদ এশা তাদের দাফন সম্পন্ন করার প্রস্তুতি রয়েছে।
স্বজনরা জানিয়েছেন, মরদেহগুলো বেনাপোল সীমান্ত থেকে কুষ্টিয়ায় পৌঁছানোর সময়ের ওপর শেষকৃত্য ও দাফনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ভর করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ বছর আগে ভিন্ন ধর্মের অনুসারী হলেও ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন দেবাশীষ দত্ত ও আফসানা শারমীন। ধর্মীয় ভিন্নতা তাদের সুখের সংসারে কখনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। মহিমা ও স্বর্ণশীষ নামের দুই সন্তানকে নিয়ে তাদের ছোট্ট পৃথিবী ছিল হাসিখুশিতে ভরপুর।
গত ৩ আগস্ট চিকিৎসার জন্য স্ত্রী আফসানা ও ছোট ছেলে স্বর্ণশীষকে নিয়ে কুষ্টিয়ার বাসা থেকে কলকাতার উদ্দেশে রওনা হন সাংবাদিক দেবাশীষ। পরবর্তীতে তার শ্বশুর আকরাম হোসেনও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। কিন্তু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার পরিবর্তে কফিনবন্দি হয়ে চিরতরে দেশবাসীর কাছে ফিরছেন তারা।
কলকাতায় বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ জানান, সরকারি খরচে নিহতদের মরদেহ দেশে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতা কাটিয়ে শুক্রবার রাতে কলকাতার পিস ওয়ার্ল্ডের হিমাগার থেকে কফিনবন্দি মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিহতদের মধ্যে সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছরের শিশু স্বর্ণশীষ দত্ত, শ্বশুর আকরাম হোসেন এবং সাভারের আমিনবাজারের আহমেদ বাবুর মরদেহ বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে প্রবেশ করবে। অন্যদিকে সাতক্ষীরার আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। শনিবার সকালে পাসপোর্ট বাতিলের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কফিনবাহী অ্যাম্বুলেন্সগুলো পেট্রাপোল হয়ে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাতে কলকাতার একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে দমবন্ধ হয়ে সাত বাংলাদেশি ও দুই ভারতীয়সহ মোট ৯ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়।
সময়ের আলো/জোই