লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ভুয়া চিকিৎসকদের দিয়ে চলছে ডেন্টাল চিকিৎসার রমরমা ব্যবসা। অভিযোগ রয়েছে, তাদের নেই স্বীকৃত বিডিএস ডিগ্রি, নেই কোনো অভিজ্ঞতা, তবুও বিশালাকারের সাইনবোর্ড লাগিয়ে এক-একজন বনে গেছেন চিকিৎসক।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার করুণানগর, হাজিরহাট, চরলরেন্স, করইতোলা, তোরাবগঞ্জ ও ফজুমিয়ার হাটসহ অন্তত ১৫ থেকে ২০ টি ভুয়া ডেন্টাল ক্লিনিক গড়ে উঠেছে। বিশালাকারের সাইনবোর্ড লাগিয়ে চলছে তার বিজ্ঞাপন। বিভিন্ন নামসর্বস্ব প্রতিষ্ঠান থেকে কোন রকম কাজ শিখে গড়ে তুলেছেন প্রতিষ্ঠান। নিজেদের চিকিৎসকদের দাবি করা এই ব্যক্তিদের মূল কাজ ল্যাবে দাঁত তৈরি করা এবং সরকারি সার্টিফিকেটধারী ডাক্তারকে সহযোগিতা করা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার নাম সর্বস্ব গড়ে উঠা প্রায় ২০ টি প্রতিষ্ঠানে বছরের পর বছর উপকূলের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চিকিৎসার নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন তারা। এদের মধ্যে অনেকের বহুতল কয়েকটি ভবন ও গাড়ির মালিক হয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিরা এলাকায় একশ্রেণির নারীদের কমিশন দিয়ে তাদের রোগীর জোগাড় করেন। ফলে দিনের পর দিন সাধারণ মানুষকে সেবার নামে 'গলা কাটেন'। রোগীদের দেওয়া হচ্ছে উচ্চমূল্য টেস্ট, যেখানে রয়েছে কথিত চিকিৎসক ও ল্যাব মালিকদের মধ্যে কমিশন ভাগাভাগির মতো কাজও।
ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স ও কথিত সার্টিফিকেট দিয়ে অপচিকিৎসা করা এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থার কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের তদারকির অভাবে ভুয়া চিকিৎসকরা মানুষের সরলতার সুযোগ নিচ্ছেন।
নাসিরগঞ্জের বাসিন্দা ভুক্তভোগী নাসিমা বেগম ক্ষোভ ও কষ্ট প্রকাশ করে বলেন, ৭ হাজার টাকার চুক্তিতে দাঁত বাঁধিয়েছি। কিন্তু গত ৫ মাস ধরে দাঁতে প্রচণ্ড ব্যথা। কী দাঁত বাঁধালো আল্লাহ ভালো জানেন।
এ সকল চিকিৎসকদের কাছ থেকে সেবা নিয়ে ক্যান্সারের পাশাপাশি মৃত্যুর মুখোমুখি হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, যত্রতত্র এসব ভুয়া প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
প্রতিষ্ঠানের নামের আগে ডেন্টাল প্রযুক্তিবিদ, ডিএলও - ডিএমএ ও ডেন্টিস্ট ব্যবহার করে প্রেসক্রিপশন দিচ্ছে অহরহ। এদের মধ্যে অনেকের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ডেন্টাল অপারেটর দাবি করেন, তারা তিন বছর কিংবা তারও অধিক সময় ধরে কোর্স করছেন। এজন্য প্রেসক্রিপন লেখেন। এছাড়া কিছু চিকিৎসার কাজে বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
ডিজিটাল ডেন্টাল কেয়ারের পরিচালক মো. মিজানুর রহমান জানান, আমরা দাঁতের রোগীদের ছোটোখাটো কাজ করে থাকি। চার বছরের ডিপ্লোমা সনদ রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমান জানান, ডেন্টালের কয়েকটি ক্লিনিক রয়েছে। আমরা দ্রুত সময়ের মধ্যে অভিযান পরিচালনা করবো।
লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. বাহারুল আলম জানান, আমি সদ্য যোগদান করেছি। কমলনগরের বিষয়টি আমি জেনেছি। খুব শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন ওই কর্মকর্তা।
সময়ের আলো/আতা