জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে ‘আওয়ামী লীগ নেতার’ প্রতিবাদলিপি, প্রতিবেদকের বক্তব্য

পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

চট্টগ্রামের পটিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা মো. সিরাজের বিরুদ্ধে প্রবাসী মোহাম্মদ হাসানের ৬ শতক জমি দীর্ঘদিন দখলে রাখার অভিযোগ

2026-08-22T20:08:30+00:00
2026-08-22T20:13:42+00:00
 
  শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬,
৭ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
জমি দখলের অভিযোগ নিয়ে ‘আওয়ামী লীগ নেতার’ প্রতিবাদলিপি, প্রতিবেদকের বক্তব্য
পটিয়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০৮ পিএম  আপডেট: ২২.০৮.২০২৬ ৮:১৩ পিএম
কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা মো. সিরাজ ও বিবাদমান জমি। ছবি : সংগৃহীত
চট্টগ্রামের পটিয়ায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা মো. সিরাজের বিরুদ্ধে প্রবাসী মোহাম্মদ হাসানের ৬ শতক জমি দীর্ঘদিন দখলে রাখার অভিযোগ নিয়ে প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন সিরাজ। গত ১৬ আগস্ট দৈনিক সময়ের আলো ও এর অনলাইন সংস্করণে প্রকাশিত ‘আওয়ামী লীগ নেতার বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ’ শিরোনামের প্রতিবেদনটিকে তিনি ‘অসত্য, ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও একপাক্ষিক’ বলে দাবি করেছেন।

প্রতিবাদলিপিতে মো. সিরাজ দাবি করেন, জমিটি দখল করে রাখার অভিযোগ সঠিক নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, জমির মালিক মোহাম্মদ হাসানের স্ত্রী পারভীন আক্তারের সঙ্গে আলোচনা করে ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জমি হস্তান্তরের বিষয়ে একটি চুক্তি করা হয়। ওই চুক্তির ভিত্তিতে তিনি জমির দখল নেন এবং সেখানে সীমানাপ্রাচীর ও ঘর নির্মাণ করেন।

সিরাজের দাবি, পরবর্তীতে জমির মালিকপক্ষ চুক্তি অনুযায়ী রেজিস্ট্রি সম্পন্ন না করে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। জমির মূল্য বেড়ে যাওয়ায় আগের ১০ লাখ ২০ হাজার টাকার পরিবর্তে ১৫ লাখ টাকা দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতার কথাও তিনি প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও দাবি করেন, তার বক্তব্য না নিয়েই একপাক্ষিকভাবে সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে এবং তাকে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যেই প্রতিবেদনটি করা হয়েছে।

তবে এ অভিযোগের বিষয়ে প্রতিবেদকের বক্তব্য হলো, সংবাদটি সরেজমিন অনুসন্ধান, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং জমির মালিকানা-সংক্রান্ত নথিপত্র যাচাইয়ের ভিত্তিতেই প্রকাশ করা হয়েছে। কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার উদ্দেশ্যে প্রতিবেদনটি করা হয়নি। এ কারণে সংবাদে ‘দখলে রাখার অভিযোগ উঠেছে’, ‘অভিযোগ করেছেন’ ও ‘দাবি’—এ ধরনের শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।


নথিপত্র যাচাই

প্রতিবেদকের বক্তব্য অনুযায়ী, সংবাদ সংগ্রহের সময় ঘটনাস্থলে গিয়ে জমির অবস্থান ও সেখানে থাকা স্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি জমির সাব-কবলা দলিল, নামজারি খতিয়ান এবং সর্বশেষ ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধের রশিদসহ সংশ্লিষ্ট নথি পর্যালোচনা করা হয়েছে।


যাচাই করা নথি অনুযায়ী, ২০১৪ সালের ১৯ আগস্ট রেজিস্ট্রিকৃত সাফ বিক্রয় কবলা দলিলের মাধ্যমে মোহাম্মদ হাসান জমিটি ক্রয় করেন। পরে ২০১৮ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি তার নামে নামজারি হয়। সর্বশেষ ২০২৬ সালের ২৬ জুনও তার নামে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদকের দাবি, এসব নথির তথ্যের ভিত্তিতেই প্রকাশিত প্রতিবেদনে জমির মালিকানা-সংক্রান্ত বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্তের বক্তব্য নেওয়া প্রসঙ্গে

প্রতিবেদকের বক্তব্যে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে মো. সিরাজকে পাওয়া না গেলেও পরে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য নেওয়া হয়। ওই বক্তব্যে সিরাজ জমির মালিকদের সঙ্গে বৈঠক ও বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জানান। একই সঙ্গে তিনি ৩ গণ্ডা জমির দাম ১৫ লাখ টাকা বলেছেন এবং জমির মালিকপক্ষ তাতে রাজি হয়নি বলেও জানান।

এ কারণে ‘আমার পক্ষে বক্তব্য না নিয়েই একতরফাভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে’ প্রতিবাদলিপিতে করা এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন প্রতিবেদক। তার ভাষ্য, প্রকাশিত সংবাদে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য যথাযথভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

চুক্তি ও পাওয়ার অব অ্যাটর্নি নিয়ে প্রশ্ন

প্রতিবাদলিপিতে মো. সিরাজ দাবি করেছেন, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর পারভীন আক্তারের সঙ্গে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে জমি হস্তান্তরের চুক্তি করা হয়েছিল। একই সঙ্গে তাকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়ার পাশাপাশি জমির দখলও বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

তবে প্রতিবেদকের বক্তব্য, সংবাদ প্রকাশের সময় এসব দাবি বা সংশ্লিষ্ট কোনো দলিল তার কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। প্রতিবাদলিপির মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো এসব তথ্য তার নজরে এসেছে।

প্রতিবেদকের মতে, পারভীন আক্তারকে পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দেওয়ার দাবি সত্য হলে সংশ্লিষ্ট দলিল উপস্থাপনের মাধ্যমে তা যাচাই করা সম্ভব। বর্তমানে এ দাবির পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য দলিল প্রতিবেদকের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি বলে জানানো হয়েছে।

একইভাবে, প্রতিবাদলিপিতে মোহাম্মদ হাসান গত কয়েক বছরে গোপনে একাধিকবার বাংলাদেশে এসেছেন বলে যে দাবি করা হয়েছে, সেটিও যাচাইযোগ্য তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে প্রতিবেদকের বক্তব্য। এ বিষয়ে মোহাম্মদ হাসানের পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন রেকর্ড যাচাই করা যেতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিবাদলিপির সঙ্গে চুক্তিপত্র, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি, ইমিগ্রেশন রেকর্ড বা অন্য কোনো প্রামাণ্য নথি দেওয়া হলে সেগুলো যাচাই করে সত্যতা পাওয়া সাপেক্ষে পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রয়োজনীয় তথ্য তুলে ধরা হবে।

স্থানীয় বাসিন্দার বক্তব্য নিয়েও ব্যাখ্যা

প্রকাশিত প্রতিবেদনে স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল করিমের বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়েছিল। সেখানে রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জমি দখল বা কম দামে জমি কেনার অভিযোগের কথা বলা হয়।

তবে প্রতিবেদকের বক্তব্য, এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নথি বা প্রামাণ্য তথ্য পাওয়া যায়নি, এ বিষয়টিও প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়েছে। আবদুল করিমের বক্তব্যকে প্রতিবেদকের নিজস্ব মন্তব্য, অনুমান বা প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়নি; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য হিসেবেই তা প্রকাশ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

প্রতিবেদকের অবস্থান

প্রতিবেদকের বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকাশিত সংবাদে কোনো নিজস্ব মন্তব্য, অনুমান বা মনগড়া তথ্য যুক্ত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, সাক্ষাৎকার এবং যাচাই করা নথিপত্র প্রতিবেদকের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে।

প্রতিবাদলিপিতে সংবাদটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর বলা হলেও প্রতিবেদকের দাবি, প্রকাশিত সংবাদের মূল বিষয় ছিল একটি নির্দিষ্ট জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধ এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য। কোনো রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তির পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য ছিল না।

প্রতিবেদক আরও জানিয়েছেন, প্রকাশিত সংবাদটি সরেজমিনে পাওয়া তথ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এবং যাচাই করা নথির ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে প্রতিবাদলিপির সঙ্গে নতুন কোনো প্রামাণ্য নথি বা তথ্য উপস্থাপন করা হলে এবং যাচাইয়ে তা সত্য প্রমাণিত হলে সাংবাদিকতার নীতি অনুসারে প্রয়োজনীয় সংশোধন, সংযোজন বা ব্যাখ্যাসহ পরবর্তী প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করতে আপত্তি নেই।

প্রতিবেদকের ভাষ্য, কারও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করা, ব্যক্তিগত বিরোধ সৃষ্টি করা কিংবা কোনো পক্ষকে হেয় করা নয়; অভিযোগের প্রকৃতি, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য এবং যাচাই করা তথ্য-নথির ভিত্তিতে প্রকৃত বিষয়টি পাঠকের সামনে তুলে ধরাই ছিল প্রকাশিত প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য।


সময়ের আলো/কেআই



  বিষয়:   জমি দখল  অভিযোগ  আওয়ামী লীগ নেতা  প্রতিবাদলিপি  ব্যাখ্যা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: