পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও আশঙ্কাজনক প্লাস্টিক দূষণ রোধে নড়াইলে গ্রহণ করা হয়েছে এক ব্যতিক্রমী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ। ব্যবহৃত প্লাস্টিক বর্জ্য অপসারণ এবং সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে সামাজিক সংগঠন ‘চলো পাল্টাই বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে আয়োজিত হয়েছে ‘৩টি প্লাস্টিক বোতল দিন, ১টি গাছের চারা নিন— সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শীর্ষক এই অভিনব পরিবেশবান্ধব কর্মসূচি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর ১২টায় জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমি চত্বরে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচিটির শুভ সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে তাদের জমা দেওয়া খালি প্লাস্টিক বোতলের বিনিময়ে ফলদ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির চারাগাছ বিতরণ করা হয়। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে এবং ব্যবহৃত প্লাস্টিকের সঠিক পুনর্ব্যবহার নিশ্চিত করতে নড়াইলে এমন উদ্যোগ এই প্রথম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান অধিদফতরের উপপরিচালক আশিক এলাহী। বক্তব্যে তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য আমাদের মাটি, পানি ও সামগ্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। শিক্ষার্থীদের একদম ছোটবেলা থেকেই পরিবেশ রক্ষার এই বার্তা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মাত্র ৩টি পরিত্যক্ত বোতলের বিনিময়ে একটি সবুজ চারা হাতে তুলে নিয়ে তারা কেবল গাছই রোপণ করছে না, বরং প্লাস্টিকমুক্ত পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার গ্রহণ করছে। তরুণ প্রজন্মের এমন উদ্ভাবনী উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।
কর্মসূচিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নড়াইল প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রশিদ লাবলু, মির্জাপুর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ রওশন আলী, নড়াইল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ফসিয়ার রহমান এবং নড়াইল বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক আব্দুল জলিল। অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বসবাসযোগ্য, সবুজ ও সুস্থ বিশ্ব রেখে যেতে হলে প্লাস্টিক ব্যবহার কমানো ও বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই।
‘চলো পাল্টাই বাংলাদেশ’ সংগঠনের সভাপতি জাকারিয়া খানের সভাপতিত্বে এবং সার্বিক পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের অর্থ সম্পাদক মায়েশা আলম মুন, পাবলিসিটি সেক্রেটারি মাছুরা খানম, হেলথ সেক্রেটারি লিবিয়া আক্তার, হিউম্যান সেক্রেটারি শাইলা আক্তার শ্রাবণী এবং সহ-সম্পাদক রাফিয়া ফেরদৌস তাসনিমসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
আয়োজকরা জানান, সংগৃহীত সব প্লাস্টিক বোতল প্রক্রিয়াজাতকরণের জন্য রিসাইক্লিং সেন্টারে পাঠানো হবে এবং এর মাধ্যমে প্রাপ্ত অর্থ সংগঠনের ভবিষ্যৎ পরিবেশবান্ধব প্রকল্পে ব্যয় করা হবে। পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।
সময়ের আলো/জোই