ফেনীর সোনাগাজীতে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।
সোমবার (২৪ আগস্ট) রায় ঘোষণার পর তিনি বলেন, ‘আমার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। সিরাজ উদদৌলার (মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি) জন্য আমার মেয়েকে হারিয়েছি। আজ আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট। আমার মেয়ের আত্মার শান্তি পেয়েছে।’
রায় ঘোষণার পর নুসরাতের সোনাগাজীর উত্তর চরচান্দিয়ার বাড়িতে গণমাধ্যমকর্মীদের ভিড় জমে। এ সময় কান্নায় ভেঙে পড়ে শিরিন আক্তার বলেন, ‘আমার একমাত্র মেয়ে রাফিকে ছাড়া সাতটা বছর কেমন করে বেঁচে আছি, সেটা কেউ বুঝতে পারবে না।’
নুসরাতের পরিবারের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানান তিনি। বলেন, ‘আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আমার ছেলেদের নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাড়িঘরে আগুন দিলে আমাদের কী হবে? আমরা কোথায় গিয়ে আশ্রয় নেব? প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমাদের নিরাপত্তা চাইছি।’
হাইকোর্ট বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। চারজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে। খালাস পেয়েছেন ১০ জন।
নুসরাতের বড় ভাই ও মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান নোমান বলেন, ‘পরিবারের সবাই শুরু থেকেই ন্যায়বিচার চেয়েছিলাম। নিম্ন আদালতের রায়ের পর আসামিদের স্বজনেরা আমাদের নানাভাবে হুমকি দিয়েছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হুমকি এখনো অব্যাহত রয়েছে। আমরা নিরাপত্তা চাই।’
রায়কে কেন্দ্র করে নুসরাতের বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদারের কথা জানিয়েছেন সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল হাশিম। তিনি জানান, বিকেল পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
সময়ের আলো/এমকে