কুড়িগ্রামে সার লুটের ঘটনায় ২ তদন্ত কমিটি, ১২২ বস্তা উদ্ধার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

সারাদেশ

কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারীতে সারের সংকটের কারণে ৩ দিন আগে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার লুট ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এ নিয়ে

2026-08-25T18:30:56+00:00
2026-08-25T18:30:56+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬,
১০ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
কুড়িগ্রামে সার লুটের ঘটনায় ২ তদন্ত কমিটি, ১২২ বস্তা উদ্ধার
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩০ পিএম 
ছবি : সময়ের আলো
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারীতে সারের সংকটের কারণে ৩ দিন আগে ১৯৭ বস্তা ইউরিয়া সার লুট ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। এ নিয়ে পৃথক দুই তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ১২২ বস্তা সার। এখনও উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ জানান, সার লুটের দিবাগত রাতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়। কমিটির সদস্যসচিব উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, অন্য সদস্যরা হলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার।

কমিটি সোমবার বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিলে তা তাৎক্ষণিক জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে। তদন্তে সার ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্স, স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের বিভিন্ন অনিয়ম পরিলক্ষিত হয়েছে বলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নে সার লুট ঘটনায় উপজেলা প্রশাসন থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) কেন্দ্রীয়ভাবে জেনারেল ম্যানেজারকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিসিআইসি তদন্ত কমিটি গতকালই তদন্ত শেষ করে ঢাকায় ফিরে গেছেন। আর স্থানীয় তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।


তিনি আরও জানান, কৃষকদের আতঙ্কিত হবার কোনো কারণ নেই। চাহিদানুযায়ী ইউরিয়া সারের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। তাই অগ্রিম সার ক্রয় করার প্রয়োজন নেই। কোনো কৃষক ডিলারদের নিকট থেকে চাহিদানুযায়ী সার না পেলে সংশ্লিষ্ট কৃষি অফিসে যোগাযোগ করলে, তাকে পার্শ্ববর্তী ইউনিয়ন থেকে সার প্রদান করা করা হবে এবং তা পরবর্তীতে কৃষি অফিস সমন্বয় করবে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম জেলায় বাংলাদেশ অ্যাগ্রিকালচারাল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (বিএডিসি) এর আওতায় ১১৪ জন ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) আওতায় ৯৪জন সার ডিলার রয়েছে। প্রতি ইউনিয়নে বিএডিসি ৩জন ও বিসিআইসি ১ জন ডিলার থাকার কথা থাকলেও বাস্তবে কোথাও কোথাও কম বেশি রয়েছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামীতে সকল ডিলারদের সমন্বিতভাবে সমহারে ইউরিয়া সারসহ অন্যান্য সার সরবরাহের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে কার্যক্রম চলছে।

আগস্ট মাসে জেলায় ইউরিয়ার চাহিদা ছিল ৫৮৭৫ মেট্রিক টন যা সরবরাহ করা হয়েছে। সেপ্টেম্বর মাসের চাহিদা ইউরিয়ার ৪৬৪৪ মেট্রিকটন। আমন মৌসুমে আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ইউরিয়া সার প্রয়োগের সময়সীমা শেষ হবে বিধায় ইউরিয়া সারের ঘাটতি থাকবে না।

কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। আবার কোনো কোনো ডিলার নিয়মিত বিক্রয়কেন্দ্র খোলেন না। ফলে ধান রোপণের পর সঠিক সময়ে সার না পেয়ে বাধ্য হয়ে খোলা বাজার থেকে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে তাঁদের।


এ নিয়ে কৃষি বিভাগের দাবি, উপজেলায় কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার রয়েছে। শিলখুড়িতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার অন্যতম কারণ ডিলারসংখ্যা ও ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দে অসামঞ্জস্য। কিন্তু কৃষকরা বলেন, বরাদ্দ থাকলেও প্রয়োজনের সময় তাঁরা সার পাচ্ছেন না। বিশেষ করে শিলখুড়িতে আবাদি জমির পরিমাণ বাড়লেও আগের কাঠামো অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে।

এলাকা ঘুরে জানা গেছে, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার অনেক ডিলারের গুদামঘর নিজ ইউনিয়নের বাইরে অবস্থিত। শিলখুড়ি ইউনিয়নের সার ডিলার শাহ আমানত ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী তাইফুর রহমান মুকুলের গুদাম ইউনিয়নের বাইরে বলে জানা গেছে।

কৃষকদের অভিযোগ, ঘটনার দিন ইউনিয়নের নির্ধারিত বিক্রয়কেন্দ্র নিয়মিত খোলা না থাকায় একসঙ্গে কয়েক শ কৃষক সেখানে ভিড় করেন। এতে মজুতের তুলনায় কৃষকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সংকট ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

শিলখুড়ির উত্তর ধলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিন ডিলার পয়েন্টে গিয়ে ঘুরেছেন। এক দিনও বিক্রয়কেন্দ্র খোলা পাননি। রোববার জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে সকাল আটটায় লাইনে দাঁড়িয়েও সাড়ে নয়টার আগে ডিলার আসেননি। পরে সার সংকটের কথা বলে বিতরণ বন্ধ রাখা হয়। একপর্যায়ে কৃষকেরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যান।

ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আবদুল আজিম বলেন, কৃষকরা গুদাম থেকে সার নিয়ে যাবার ঘটনায় রোববার রাতে ডিলার তাইফুর রহমান মুকুল জিডি করেছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত ১২২ বস্তা সার পাওয়া গেছে। অন্য সার উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   কুড়িগ্রাম  সার লুট  তদন্ত কমিটি  উদ্ধার  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: