দীর্ঘ ৪৭ বছর পর সিরিয়াকে ‘সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা রাষ্ট্র’ বা ‘স্টেট স্পন্সর অব টেররিজম (এসএসটি)’ তালিকা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সিদ্ধান্তে সিরিয়ার সশস্ত্র গোষ্ঠী হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস)-এর ওপর থাকা সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাও প্রত্যাহার করা হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ আগস্ট) নেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে সিরিয়ার ওপর আরোপিত কিছু রফতানি নিষেধাজ্ঞা শিথিল হওয়ার পাশাপাশি দেশটিকে সামরিক সহায়তা দেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা। তার মতে, দীর্ঘ ১৪ বছরের গৃহযুদ্ধে বিপর্যস্ত সিরিয়ার পুনর্গঠন এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, এইচটিএসের ওপর ‘স্পেশালি ডিজাইনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে আরোপিত তালিকাভুক্তিও প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে সিরিয়ার জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে বলে মনে করছে দেশটির সরকার।
সিরিয়ার বর্তমান প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা একসময় আল-কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হিসেবে পরিচিত এইচটিএসের নেতৃত্বে ছিলেন। ইসরায়েল গত সপ্তাহে সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত সামনে এলো। ওই হামলার ঘটনায় সিরিয়ার ঘনিষ্ঠ মিত্র তুরস্কও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।
হামলার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ওয়াশিংটনও। তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এবং সিরিয়ায় মার্কিন দূত টম ব্যারাক গত সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে ইসরায়েলের হামলাকে ‘গুরুতর ও উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যে এমন ইঙ্গিতও পাওয়া যায় যে, ইসরায়েল হয়তো তুরস্ককে সংঘাতে জড়ানোর চেষ্টা করছে।
এর আগে, সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের কালো তালিকা থেকে সরানোর ইচ্ছার কথা জানিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। গত মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রক্রিয়া শুরু করেন। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে সফরের সময় ট্রাম্পের নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে এটি ছিল অন্যতম। সম্মেলনের ফাঁকে তিনি আহমেদ আল-শারার সঙ্গে বৈঠকও করেন।
শারার জন্য ওই বৈঠকটি ছিল কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা। এর আগে সৌদি আরবের রিয়াদে ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাৎ হয় এবং পরে নভেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ওভাল অফিসে তার সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময় হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সালে সিরিয়াকে সন্ত্রাসবাদের মদদদাতা রাষ্ট্রের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্র। তখন দেশটির ক্ষমতায় ছিলেন বর্তমান সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাবা হাফেজ আল-আসাদ। শীতল যুদ্ধের সময় সিরিয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের কাছ থেকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা পেত। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও তার তৎকালীন প্রতিপক্ষদের সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করতেন হাফেজ আল-আসাদ। তবে লেবানন ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সিরিয়ার সমর্থনকে কেন্দ্র করে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি হয়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ