বাংলাদেশে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে এনে জাতীয় দলের সঙ্গে প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের আলোচনা এখন দেশের ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম আলোচিত বিষয়। তবে সমর্থকদের স্বপ্নের এই ম্যাচ আয়োজন করতে বড় অঙ্কের অর্থ প্রয়োজন হবে। আর সেই ব্যয় সরকার বহন করতে আগ্রহী নয় বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। তার পরামর্শ, বাফুফে স্পন্সরদের সহায়তায় আয়োজনের অর্থের ব্যবস্থা করতে পারলে সরকার সার্বিক সহযোগিতা করবে।
মঙ্গলবার ঢাকায় বক্সিং ফেডারেশন আয়োজিত কোচেস ট্রেনিংয়ের সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক। দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকারের বড় ব্যয় রয়েছে। তাই একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজনের জন্য বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ ব্যয় করার মতো মানসিকতা এই মুহূর্তে সরকারের নেই। তবে ব্রাজিলকে বাংলাদেশে আনার পরিকল্পনাকে পুরোপুরি নাকচও করছেন না প্রতিমন্ত্রী।
তার মতে, বাফুফে যদি বিভিন্ন স্পন্সর ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আয়োজনের আর্থিক কাঠামো তৈরি করতে পারে, তাহলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে। বাংলাদেশে ব্রাজিলের বিপুল জনপ্রিয়তার কথা উল্লেখ করে আমিনুল হক বলেন, জাতীয় দলের সঙ্গে ব্রাজিলের একটি ম্যাচ হলে সেটি নিঃসন্দেহে দেশের ফুটবলের জন্য বড় অর্জন হবে। সমর্থকদের দীর্ঘদিনের স্বপ্নও পূরণ হতে পারে। তবে এমন একটি ম্যাচ আয়োজন করলেই দেশের ফুটবলের সার্বিক উন্নতি হয়ে যাবে। এমনটা মনে করেন না তিনি।
প্রতিমন্ত্রীর মতে, বাংলাদেশের ফুটবলের মূল সমস্যা অবকাঠামো ও খেলোয়াড় তৈরির কাঠামোয়। তাই একটি প্রদর্শনী ম্যাচের চেয়ে দীর্ঘমেয়াদে তৃণমূল থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় তুলে আনা এবং উন্নত ফুটবল পরিবেশ তৈরি করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
এ জন্য বাফুফের পাশাপাশি সরকারও বিভিন্ন উদ্যোগে সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি। ব্রাজিলের সম্ভাব্য ঢাকা সফর নিয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গে তার প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে। তবে সফরের ব্যয়, ম্যাচের আনুষঙ্গিক আয়োজন কিংবা ব্রাজিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। কোনো বিষয়েই এখনো বিস্তারিত আলোচনা হয়নি।
২০১১ সালে ঢাকায় আর্জেন্টিনা-নাইজেরিয়া প্রীতি ম্যাচ হয়েছিল। এবার ব্রাজিলকে ঘিরে নতুন করে বড় স্বপ্ন দেখছেন দেশের ফুটবলপ্রেমীরা। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকারি অর্থের ওপর নির্ভর না করে বাণিজ্যিক ও স্পনসরশিপভিত্তিক পথেই এগোতে হবে বাফুফেকে। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে আপাতত এমন বার্তাই মিলেছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি