গাজীপুর সিটি করপোরেশনে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ও মৃত্যু আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন ওয়ার্ডে মশকনিধন ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। তবু আক্রান্তের সংখ্যা কমছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে সুমাইয়া আক্তার মিতু (১৮) নামে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত সুমাইয়া আক্তার মিতু বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার চণ্ডীপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে।
তিনি গত বছর কোনাবাড়ী ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তির প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। পরিবারের সঙ্গে গাজীপুর মহানগরীর কোনাবাড়ীর কুদ্দুস নগর এলাকায় বসবাস করতেন মিতু।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ১৮ আগস্ট সুমাইয়ার শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। এরপর বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি। হঠাৎ অবস্থার অবনতি হলে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকালে তাকে ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
সুমাইয়ার চাচা মাইনুল ইসলাম বলেন, ভাতিজিকে নিয়ে সবার অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু আচমকা সব লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল। তার মৃত্যুতে পরিবারের সবাই বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এর আগে গত ২৩ আগস্ট গাজীপুর মহানগরীর জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় সাদিয়া (৭) নামে আরও এক শিশু ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। সাদিয়া পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ থানার তেলিপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে জরুন দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকায় ফজলু মোল্লার বাসায় ভাড়া থাকত সে। স্থানীয় একটি নূরানি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত সাদিয়া।
গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, বাড়ির আশপাশে স্থির পানি তিন দিনের বেশি জমে থাকলে সেখানে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নিতে পারে। ওই মশা কাউকে কামড়ালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি বলেন, এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার পাশাপাশি নিয়মিত ফগিং ও মশকনিধন কার্যক্রম চালানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি পরিষ্কার রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
পরপর দুইজনের মৃত্যুর ঘটনায় গাজীপুরে ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সময়ের আলো/টিকে