গাজীপুরের শ্রীপুরে সুতিয়া নদীতে গোসল করতে নেমে পঞ্চম শ্রেণির দুই শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার কাওরাইদ ইউনিয়নের ভাপ্তা গ্রামের হাজীপাড়া ঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মৃত শিক্ষার্থীরা হলেন— ভাপ্তা পশ্চিমপাড়া গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে মোস্তাকিম (১১) এবং ভাপ্তা বেলদিয়া গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে রাব্বি (১১)। দুজনই ভাপ্তা বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয় ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, বুধবার সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় মোস্তাকিম ও রাব্বিসহ মোট ১১ বন্ধু মিলে সুতিয়া নদীর হাজীপাড়া ঘাটে গোসল করতে যায়। একপর্যায়ে কয়েকজন বন্ধু সাঁতার কেটে নদীর ওপারে চলে যায়। পরে মোস্তাকিম ও রাব্বি নদীতে কিছুটা দূর গিয়ে সাঁতার কেটে আবার তীরে ফেরার চেষ্টা করে। তীরে আসার কাছাকাছি সময়ে হঠাৎ তারা পানিতে ডুবে যান। এ সময় সঙ্গে থাকা বন্ধুরা বিষয়টি দেখতে পেয়ে চিৎকার করে স্থানীয় লোকজনকে জানায়। পরে স্থানীয়রা নদী থেকে মোস্তাকিম ও রাব্বিকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।
মৃতদের বন্ধু ফুয়াদ বলেন, আমরা ১১ বন্ধু মিলে নদীতে গোসল করতে গিয়েছিলাম। কয়েকজন সাঁতার কেটে নদীর ওপারে চলে যাই। পরে রাব্বি ও মোস্তাকিম ফিরে আসার সময় পানিতে ডুবে যায়। আমরা চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এসে তাদের উদ্ধার করেন।
ভাপ্তা বেলদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মহসিনুল করিম সোহাগ বলেন, সরকারি ছুটি থাকায় তারা ১১ বন্ধু মিলে সুতিয়া নদীর হাজীপাড়া ঘাটে গোসল করতে গিয়েছিল। চারজন সাঁতার কেটে নদীর ওপারে চলে যায়। রাব্বি ও মোস্তাকিম কিছুটা দূর গিয়ে আবার ফেরার সময় তীরের কাছাকাছি এসে পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাদের উদ্ধার করেন।
তিনি আরও বলেন, রাব্বি ও মোস্তাকিম আমার বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তারা দুজনই অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও সবার প্রিয় ছিল। দুই ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
এই প্রসঙ্গে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সুতিয়া নদীর বিভিন্ন স্থানে পানির গভীরতা ও স্রোত সম্পর্কে শিশুদের ধারণা না থাকায় তারা প্রায়ই ঝুঁকি নিয়ে নদীতে গোসল করতে নামে। নদীতে গোসলের বিষয়ে অভিভাবকদের আরও সতর্ক ও সচেতন হওয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন তারা।
সময়ের আলো/এনএন