চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার হেঁয়াকো বেগবাজার এলাকায় গাড়িতে ব্যবহারের জন্য অনুমোদিত একটি এলপিজি স্টেশন থেকে রান্নার কাজে ব্যবহৃত সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার অভিযোগ উঠেছে। ফেনী-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ‘রাজ এলপিজি ফিলিং অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টারে’ এভাবে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাতে সরেজমিনে গিয়ে ওই স্টেশনে রান্নার কাজে ব্যবহৃত একটি সিলিন্ডারে গ্যাস ভরতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারের তুলনায় কম দামে গ্যাস পাওয়ায় অনেকে সেখানে রান্নার সিলিন্ডার নিয়ে আসছেন। এতে অনুমোদিত পদ্ধতির বাইরে গ্যাস ভরার পাশাপাশি অতিরিক্ত গ্যাস নেওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানান, বাজারে প্রচলিত এলপিজি সিলিন্ডারে সাধারণত নির্ধারিত পরিমাণ গ্যাস থাকে। কিন্তু ওই স্টেশনে ১৫ থেকে ১৬ কেজি পর্যন্ত গ্যাস ভরা যায়। বাজারদরের চেয়ে প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা কমে গ্যাস পাওয়ায় গ্রাহকদের আগ্রহও বেশি।
সরেজমিনে দেখা যায়, এক ব্যক্তি রান্নার কাজে ব্যবহৃত একটি সিলিন্ডারে প্রায় ৮০০ টাকার গ্যাস নিচ্ছেন। এ সময় নিয়মবহির্ভূতভাবে গ্যাস ভরার জন্য অতিরিক্ত ৫০ টাকা নেওয়া হয়। স্থানীয় কয়েকজনের কাছে স্টেশনে এভাবে গ্যাস বিক্রির আগের সময়ের ভিডিও ও ছবিও পাওয়া গেছে।
স্টেশনের বিক্রয়কর্মী কামরুল হোসেন বলেন, ‘মালিক যেভাবে বিক্রি করতে বলেন, সেভাবেই বিক্রি করি। অনুমতিপত্র আছে কি না, সেটা জানি না।’
হেঁয়াকোর এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ী শফিউল আলম ও আবু তাহের বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর স্টেশনের মালিক আবুল কালাম আজাদকে জানানো হয়েছিল। তবে তিনি বিষয়টিতে কর্ণপাত করেননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে রাজ এলপিজি ফিলিং অ্যান্ড কনভার্সন সেন্টারের স্বত্বাধিকারী আবুল কালাম আজাদ মুঠোফোনে বলেন, ‘সরকারের যথাযথ অনুমোদন নিয়েই গ্যাস বিক্রি করছি। আমরা রাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি করছি না। এলাকার অসহায় ও গরিবদের সহায়তার জন্য গ্যাস দিয়ে থাকি।’ তবে তিনি অনুমোদনের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
এলপিজি খাতের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, গাড়ির জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত এলপিজি ও রান্নার কাজে ব্যবহৃত এলপিজির সরবরাহ এবং ব্যবহারের পদ্ধতি আলাদা। অনুমোদিত ব্যবস্থার বাইরে রান্নার সিলিন্ডারে গ্যাস ভরা হলে সিলিন্ডারের ধারণক্ষমতা, ওজন ও নিরাপত্তা ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিস্ফোরক আইনের বিধান অনুযায়ী, মোটরযান বা অন্য কোনো স্বয়ংক্রিয় ইঞ্জিনের জ্বালানি হিসেবে এলপিজি সরবরাহকারী স্টেশন থেকে সংশ্লিষ্ট জ্বালানি ধারণপাত্র ছাড়া অন্য কোনো বহনযোগ্য পাত্রে এলপিজি ভর্তি করা যাবে না। এ বিধান লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
ফটিকছড়ি ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা (এসও) পংকজ বড়ুয়া বলেন, ‘এ ধরনের কাজ বেআইনি ও ঝুঁকিপূর্ণ। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’
ফটিকছড়ি উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাঈদ মুহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, ‘এলপিজি স্টেশনগুলো এ ধরনের বেআইনি কাজে জড়িত থাকলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সময়ের আলো/এসএকে