তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ বলেছেন, কৃষি জমি, বসতভিটা ও পরিবেশ ধ্বংস করে শুধু কয়লা উত্তোলনকে উন্নয়ন বলা যায় না। প্রকৃত উন্নয়ন হচ্ছে মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন করা। এছাড়া কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির সুরক্ষা এবং নিরাপদ বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) দিনাজপুরে ফুলবাড়ী ট্রাজেডি দিবস উপলক্ষে শোকর্যালি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আনু মোহাম্মদ বলেন, একটি খনি থেকে কয়লা তুলে স্বল্প বা মধ্যমেয়াদে জ্বালানি চাহিদা মেটানো সম্ভব হলেও এর কারণে যদি কৃষিজমি, পানির নিরাপত্তা, বসতভিটা ও জীববৈচিত্র্যের ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি হয়, তাহলে সেই উন্নয়নের প্রকৃত মূল্য নিয়ে প্রশ্ন থাকে। উন্নয়নের হিসাব শুধু কত টন কয়লা উত্তোলন করা হলো, তা দিয়ে করা যাবে না। মানুষের জীবন, কৃষি ও পরিবেশের সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
আলোচনা সভায় জাতীয় কমিটির নেতারা বলেন, কৃষি ও পরিবেশ ধ্বংস করে কয়লা উত্তোলনের পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে যেতে হবে। তারা সৌর ও বায়ুবিদ্যুৎ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
জাতীয় কমিটির ফুলবাড়ী শাখার আহ্বায়ক সৈয়দ সাইফুল ইসলাম জুয়েল বলেন, জাতীয় কমিটির বিকল্প জ্বালানি প্রস্তাব গ্রহণ না করে ফুলবাড়ীকে ধ্বংস করে কয়লাখনি বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হলে গণআন্দোলনের মাধ্যমে তা প্রতিহত করা হবে।
সম্মিলিত নাগরিক সমাজের আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র মাহমুদ আলম লিটন বলেন, ২০০৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সঙ্গে স্থানীয় জনগণের যে ছয় দফা সমঝোতা হয়েছিল, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে হবে। ওই চুক্তিতে স্থানীয় মানুষের ঘরবাড়ি, বসতভিটা, ব্যবসাকেন্দ্র এবং এ অঞ্চলের কৃষি ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মাহমুদ আলম লিটন বলেন, বর্তমান সরকারের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পরিবেশ রক্ষার বিভিন্ন কর্মসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ফুলবাড়ী অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ছয় দফা চুক্তি বাস্তবায়ন করা হবে—এটাই তাদের প্রত্যাশা।
ছয় দফা চুক্তি বাস্তবায়নের দাবি জানান সম্মিলিত পেশাজীবী সংগঠনের আহ্বায়ক ও সাবেক পৌর মেয়র মুরতুজা সরকার মানিক, ব্যবসায়ী নেতা এম এ কায়ুম, মানিক মণ্ডলসহ বিভিন্ন পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা।
এর আগে সকাল ১০টায় স্থানীয় নিমতলা মোড় থেকে জাতীয় কমিটির উদ্যোগে একটি শোকর্যালি বের হয়। র্যালিটি পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে ২০০৬ সালের ২৬ আগস্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে নিহত ব্যক্তিদের স্মৃতিস্তম্ভে গিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে। পরে নিমতলা মোড়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সময়ের আলো/এনএন