প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, মালয়েশিয়া সরকার যদি ১০ হাজার বাংলাদেশিকে বিনামূল্যে ভিসা দেয়, তাহলে বাংলাদেশ সরকারও তাদের কোনো খরচ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় পাঠাবে। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কোনো টাকা দিতে হবে না, শুধু পাসপোর্ট থাকলেই হবে। মালয়েশিয়ার চাহিদা অনুযায়ী ওয়েল্ডার, ড্রাইভারসহ বিভিন্ন পেশার কর্মী পাঠানো হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেলে সিলেটের কানাইঘাটে কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত পাঁচ প্রবাসীর পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক অনুদান দেওয়ার অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রবাসী কার্ডের বিষয়ে আরিফুল হক চৌধুরী জানান, দুই ধরনের কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। একটি হবে সিগনেচার কার্ড এবং অন্যটি জেনারেল কার্ড। যারা দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে অবস্থান করছেন এবং যারা নতুন করে বিদেশে যাবেন, তাদের জন্য আলাদা কার্ডের ব্যবস্থা থাকবে। পুরো প্রক্রিয়াটি গুছিয়ে আনতে কিছুটা সময় লাগছে। দেশের বাইরে প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয় মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ এ কার্যক্রম শুরু করার আশা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব কার্ডের মাধ্যমে আপাতত স্বাস্থ্য, শিক্ষা, জমি ও বিমানসহ প্রায় ১০ থেকে ১২ ধরনের সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
১০ হাজার শ্রমিক নির্বাচনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের কথা বিবেচনা করেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সারা দেশে যাতে কম খরচে বা বিনা খরচে বিদেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ তৈরি করা যায়, সরকার সেটি প্রমাণ করতে চায়।
শ্রমবাজার চালুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের শ্রমবাজার চালুর উদ্যোগ অতীতে নেওয়া হয়েছিল। তার মতে, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে শ্রমবাজার চালুর উদ্যোগ নেয়, পরে অন্য সরকার এসে তা বন্ধ করে দেয়।
আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশসহ বেশ কিছু দেশের শ্রমবাজার বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার ৫-৬ মাসের মধ্যেই এসব শ্রমবাজার আবার চালু হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরকে কেন্দ্র করে দেশটির সরকার ১০ হাজার বাংলাদেশিকে বিনামূল্যে ভিসা দেওয়ার বিষয়ে সম্মত হলে বাংলাদেশ সরকারও তাদের কোনো খরচ ছাড়াই মালয়েশিয়ায় পাঠাবে। এ ক্ষেত্রে শ্রমিকদের কোনো টাকা লাগবে না, শুধু পাসপোর্ট থাকতে হবে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ