অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে রেভুলেশন মেডিসিনসের তৈরি ওষুধ ‘রাসনকিউ’। উন্নত পর্যায়ের অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের বেঁচে থাকার সময় দ্বিগুণ করার প্রমাণ পাওয়ার পর দ্রুত অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ)।
দিনে একবার সেবনযোগ্য এই ওষুধটি মেটাস্ট্যাটিক অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারে আক্রান্ত এমন রোগীদের জন্য অনুমোদিত হয়েছে, যারা আগে চিকিৎসা নিয়েছেন অথবা সম্মিলিত কেমোথেরাপি নিতে পারেন না। ওষুধটি আরএএস নামের একটি প্রোটিনের বিভিন্ন ধরনকে বাধাগ্রস্ত করে। অগ্ন্যাশয়ের অনেক ক্যানসারে টিউমারের বৃদ্ধিতে এই প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
রেভুলেশন মেডিসিনস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে ৩০ দিনের চিকিৎসার জন্য ওষুধটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৯ হাজার ৮০০ ডলার। রোগীদের জন্য আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থাও করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
গত এপ্রিলে বড় একটি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর ওষুধটির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়। এরপর গুরুতর ও প্রাণঘাতী রোগীদের পরীক্ষামূলক চিকিৎসার সুযোগ দিতে এফডিএ বিশেষ কর্মসূচির আওতায় দ্রুত ব্যবহারের অনুমতি দেয়।
এরই মধ্যে প্রাথমিকভাবে ওষুধটি ব্যবহারের সুযোগ পাওয়া কিছু রোগী কেমোথেরাপির তুলনায় কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুভব করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার ৮৮ বছর বয়সী বারবারা অ্যান্ডেস জানান, এক বছর কেমোথেরাপি নেওয়ার পর জুলাইয়ে তিনি ওষুধটি শুরু করেন। এরপর স্বাভাবিক কাজকর্মে ফিরতে পেরেছেন এবং বমিভাব ও ক্লান্তিও অনেক কমেছে।
মাত্র এক-দুই মাসে অনুমোদন
নতুন এই ওষুধটি এফডিএর বিশেষ দ্রুত অনুমোদন প্রক্রিয়ার আওতায় পর্যালোচনা করা হয়েছে। এই ব্যবস্থায় সাধারণত ১০ থেকে ১২ মাস সময় লাগলেও ওষুধ অনুমোদনের সময়সীমা কমিয়ে এক থেকে দুই মাসে আনার লক্ষ্য থাকে।
বিপ্লব মেডিসিনসের প্রধান নির্বাহী মার্ক গোল্ডস্মিথ বলেন, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারসহ চিকিৎসাবিজ্ঞানের অন্যতম কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এক দশকের বেশি সময় ধরে করা কাজের স্বীকৃতি এই অনুমোদন।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ওষুধটি অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধটির বিক্রি প্রায় ২ কোটি ৮০ লাখ ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছে আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটস। চতুর্থ প্রান্তিকে তা ১৪ কোটি ৮০ লাখ ডলারে উঠতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে বিশ্বব্যাপী বছরে ১ হাজার ১৫০ কোটি ডলারের বিক্রি হতে পারে বলেও পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের চোখে যুগান্তকারী পরিবর্তন
চিকিৎসকেরা বলছেন, নতুন ওষুধটি অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। অ্যারিজোনা ক্যানসার সেন্টারের হেমাটোলজি ও অনকোলজি বিভাগের প্রধান রাচনা শ্রফ বলেন, আরএএস পথকে লক্ষ্য করে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় এটি কেবল শুরু।
তিনি জানান, ওষুধটি শুধু রোগীদের বেশি দিন বাঁচতে সহায়তা করেনি, তাদের জীবনযাত্রার মানও উন্নত করেছে। কেমোথেরাপির তুলনায় রোগীরা এই ওষুধ দীর্ঘ সময় চালিয়ে যেতে পেরেছেন।
সিলভেস্টার কমপ্রিহেনসিভ ক্যানসার সেন্টারের চিকিৎসক পিটার হোসেইন এই আবিষ্কারকে অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার চিকিৎসায় ‘বড় পরিবর্তন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, আরএএস প্রোটিনকে বাধাগ্রস্ত করার কার্যকর পদ্ধতি খুঁজতে গবেষকেরা কয়েক দশক ধরে চেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। অবশেষে সেই প্রচেষ্টায় বড় সাফল্য এসেছে।
সময়ের আলো/কেএইচ