ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রত্যাখ্যান করায় চীনের অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাগের গালিবাফ। একই সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে যুক্তরাষ্ট্র কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইরানের ওপর নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ‘অবৈধ নিষেধাজ্ঞা’ প্রত্যাখ্যান করায় চীনের নীতিগত অবস্থানকে স্বাগত জানায় তেহরান।
তিনি বলেন, ইরান ও চীনের ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব পারস্পরিক সম্মান, উভয় পক্ষের লাভজনক সহযোগিতা এবং বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বের অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এই সম্পর্কের জন্য কারও অনুমতির প্রয়োজন নেই।
গত ২৪ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’ নামে নতুন নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি ঘোষণা করে। এতে ইরানের তেল পাচার, পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি, সাইবার কার্যক্রমসহ বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ৬০টির বেশি ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
এ ছাড়া ডিজিটাল সম্পদ, প্রযুক্তি, সোনা, বিমান চলাচল ও নৌপরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা তৃতীয় পক্ষের ওপরও নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি বাড়ানো হয়েছে।
তবে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অংশীদার চীন এ পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক আইন বা জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদন ছাড়া আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে বেইজিং। ইরানের সঙ্গে চীনের সহযোগিতা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই পরিচালিত হচ্ছে বলেও জানানো হয়।
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বুধবার দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক বৈঠকে মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় সরকারের প্রস্তুতির কথা জানান।
তিনি বলেন, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অবরোধ ও বাইরের চাপের মধ্যেও অর্থনীতির বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে পূর্ণ সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে এবং বিশেষ করে বৈদেশিক মুদ্রা ও মুদ্রাবাজারে মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।
মার্কিন অর্থনৈতিক চাপ ব্যর্থ হবে দাবি করে পেজেশকিয়ান বলেন, সরকার ও অর্থনৈতিক খাতের নেওয়া পদক্ষেপের কারণে এই পর্যায়েও যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারবে না, যেমনটি তারা যুদ্ধে পারেনি।
তিনি চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে আলোচনা ও পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের পক্ষে ইরানের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন।
ইরানের ওপর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার চাপ বাড়তে থাকায় চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার করছে তেহরান। ২০২১ সালে দুই দেশ ২৫ বছর মেয়াদি ব্যাপক কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি সই করে।
সময়ের আলো/কেএইচ