হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোতে নেপাল ও তিব্বতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ১৬৮ জনে। একই ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি। নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিক ও তীর্থযাত্রীরাও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী দুর্গত এলাকায় নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চালিয়েছে নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দল। বন্যার পানির সঙ্গে বিপুল পরিমাণ কাদা ও ধ্বংসাবশেষ ভেসে এসে বিভিন্ন জনপদ, সড়ক ও সেতু ধ্বংস করেছে। এতে কয়েকটি এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
নেপালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশটিতে অন্তত ১৬৫ জন নিহত এবং ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তিব্বতে মারা গেছেন তিনজন এবং নিখোঁজ ৫৫৮ জন। নেপালে নিখোঁজদের মধ্যে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক। তাঁদের মধ্যে ১৭৮ জন ভারতীয় এবং ৬০ জনের বেশি মার্কিন নাগরিক রয়েছেন। আরও ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক নিখোঁজদের তালিকায় রয়েছেন।
নেপালের সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার হেলিকপ্টারে করে দুর্গত এলাকা থেকে শতাধিক মানুষকে উদ্ধার করেছে। অন্তত আটজন বিদেশি নাগরিককে কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে। ত্রিশুলি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিভিন্ন স্থাপনায় আটকে পড়া লোকজনকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
বন্যায় নেপালে কয়েক ডজন সেতু ধ্বংস হয়েছে এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকাজে এর প্রভাব পড়ছে। চিতওয়ান জেলায় দুর্ঘটনাস্থল থেকে কয়েক শ কিলোমিটার দূরে ভেসে যাওয়া মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। আহত অনেককে উন্নত চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে।
এদিকে তিব্বতের গিরং সীমান্ত এলাকায় ভূমিধসে কাদার স্তর কোথাও কোথাও দুই মিটারের বেশি পুরু হয়েছে। সীমান্ত বন্দরের সঙ্গে সংযোগকারী সব সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তিব্বতে একটি বাধাপ্রাপ্ত হ্রদ বা জলাধার তৈরি হয়েছে, যার পানি উপচে পড়ছে। এটি ভেঙে গেলে নতুন করে ভয়াবহ বন্যা হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। উদ্ধার তৎপরতা পরিচালনায় চীন বড় সামরিক পরিবহন বিমান পাঠিয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংও বৃহস্পতিবার গিরং এলাকায় পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম তদারক করছেন।
সময়ের আলো/কেএইচ