নেপালে বুধবারের (২৬ আগস্ট) ভয়াবহ বন্যায় রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলার অন্তত ২০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বেশিরভাগ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ কাদা, বালু ও পলিতে ভরে গেছে। বন্যার পানিতে চাপা পড়েছে একটি ক্যাম্পাস ও একটি ছাত্রীনিবাসও।
নেপালের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, জেলা শিক্ষা ইউনিট ও স্থানীয় সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ক্ষয়ক্ষতির এই হিসাব করা হয়েছে। এর মধ্যে রাসুয়ায় পাঁচটি, নুওয়াকোটে সাতটি এবং ধাদিংয়ে আটটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাসুয়ায় উত্তরগয়া ও গোসাইকুণ্ড গ্রামীণ পৌরসভা এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নুওয়াকোটের বিদুর পৌরসভা এবং ধাদিংয়ের গালছি গ্রামীণ পৌরসভা ও নীলকণ্ঠ পৌরসভা এলাকার বিদ্যালয়গুলোও পড়েছে বন্যার কবলে।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গোসাইকুণ্ডে তীর্থযাত্রায় যাওয়া ধাদিংয়ের অন্তত চারজন শিক্ষকও বন্যার পর থেকে রয়েছেন নিখোঁজ।
নুওয়াকোটের ত্রিভুবন বহুমুখী ক্যাম্পাস এবং ত্রিভুবন ত্রিশুলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীনিবাস বন্যার পানিতে পুরোপুরি চাপা পড়েছে বলে জানা গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর বেশিরভাগই সরকারি বা কমিউনিটি পরিচালিত বিদ্যালয়। তবে কয়েকটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাসুয়ায় নেপাল রাষ্ট্রীয় বেসিক স্কুলের ১০ শিক্ষকের মধ্যে মাত্র তিনজনের সঙ্গে বর্তমানে যোগাযোগ করা সম্ভব হচ্ছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। নুওয়াকোটের ত্রিশুলি কমিউনিটি বোর্ডিং স্কুল থেকে তিন শিক্ষার্থী নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে নুওয়াকোটের ৩৭ মেগাওয়াট ক্ষমতার আপার ত্রিশুলি-৩বি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ইন্টার্নশিপ করতে যাওয়া তিন শিক্ষার্থীর খোঁজেও তৎপরতা শুরু করেছে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়। চতুর্থ বর্ষের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওই তিন শিক্ষার্থী গত ২৩ আগস্ট সেখানে গিয়েছিলেন। বুধবারের বন্যার পর থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
তাদের সন্ধান, উদ্ধার ও সমন্বয়ের জন্য একটি কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়। রেজিস্ট্রার রাজীব শ্রেষ্ঠ জানিয়েছেন, সহকারী অধ্যাপক মনীশ প্রকাশের নেতৃত্বে কাজ করছে কমিটিটি।
সময়ের আলো/জেডি