হিমবাহ ধসের যেসব ঘটনায় চমকে গিয়েছিল বিশ্ব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে হিমবাহের বড় অংশ ভেঙে পড়ার পর সৃষ্ট ধস ও আকস্মিক বন্যায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। ২৬

2026-08-27T17:12:16+00:00
2026-08-27T17:12:16+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬,
১২ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
হিমবাহ ধসের যেসব ঘটনায় চমকে গিয়েছিল বিশ্ব
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৬, ৫:১২ পিএম 
আকস্মিক ধসে ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ছবি : সংগৃহীত
হিমালয়ের দুর্গম অঞ্চলে হিমবাহের বড় অংশ ভেঙে পড়ার পর সৃষ্ট ধস ও আকস্মিক বন্যায় নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে। ২৬ আগস্টের ওই ঘটনায় নেপালে অন্তত ২৮৯ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তিব্বতে মারা গেছেন আরও তিনজন। শত শত মানুষ এখনো নিখোঁজ। তাদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক ও তীর্থযাত্রীও রয়েছেন। সব মিলিয়ে নিখোঁজের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ভূমিকম্পের কারণে এই বিপর্যয়ের সূত্রপাত হয়েছে। তবে পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, ওই এলাকায় ভূমিকম্প হয়নি। বরং হিমবাহের বরফ ও পাথরের বিশাল ধস থেকেই ভূকম্পন-সদৃশ কম্পন সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি পরে প্রায় ৫ দশমিক ২ মাত্রার ভূকম্পন হিসেবে রেকর্ড হয়।

স্যাটেলাইট বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৫ হাজার ২০০ মিটার উচ্চতায় থাকা হিমবাহের নিচের একটি বড় অংশ ভেঙে প্রায় ১ হাজার ২০০ মিটার নিচের উপত্যকায় পড়ে। পরে বরফ ও পাথরের সেই স্রোত লেন্দে খোলা নদীতে গিয়ে পড়লে নদীর প্রবাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। এরপর প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি, কাদা, বরফ ও পাথর নিচের দিকে নেমে আসে।

এই ঘটনা নতুন করে সামনে এনেছে হিমবাহ ধসের ঝুঁকি। কী এই হিমবাহ ধস, কীভাবে এটি ঘটে এবং কেন এর সঙ্গে নদী ও বন্যার মতো একাধিক দুর্যোগ যুক্ত হয়ে যায়—তা নিয়ে বিজ্ঞানীদের গবেষণা দীর্ঘদিনের।

হিমবাহ ধস কী

পাহাড়ের ঢালে জমে থাকা বিশাল বরফের স্তর বা হিমবাহের কোনো অংশ হঠাৎ ভেঙে নিচে নেমে আসাকে সাধারণভাবে হিমবাহ ধস বলা হয়। তবে এর ধরন একাধিক।

বড় কোনো বরফখণ্ড দ্রুত ঢাল বেয়ে নেমে এলে তাকে ‘আইস অ্যাভালাঞ্চ’ বা বরফধস বলা হয়। বরফের সঙ্গে পাথর, মাটি ও অন্যান্য ধ্বংসাবশেষ যুক্ত হলে তা ‘রক-আইস অ্যাভালাঞ্চ’-এ পরিণত হতে পারে। আবার হিমবাহ গলে তৈরি কোনো হ্রদের প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিপুল পানি হঠাৎ বেরিয়ে এলে তাকে বলা হয় ‘গ্লেসিয়াল লেক আউটবার্স্ট ফ্লাড’ বা জিএলওএফ।

নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনায় বরফ ও পাথরের ধস, নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং পরে আকস্মিক বন্যা— এই কয়েকটি প্রক্রিয়া পরপর ঘটেছে। আন্তর্জাতিক পর্বত গবেষণা সংস্থা আইসিআইএমওডির বিশেষজ্ঞরাও জানিয়েছেন, বরফ ও পাথরের ধসের পর লেন্দে খোলা নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

হিমবাহ ধসের কারণ

হিমবাহ বাইরে থেকে স্থির মনে হলেও এটি একটি পরিবর্তনশীল ব্যবস্থা। বরফ ক্রমাগত সরে, গলে ও জমে। এর মধ্যে ফাটল তৈরি হতে পারে এবং বরফের নিচে পানি জমতে পারে। তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, তুষারপাত, পাহাড়ের ঢাল, পাথরের গঠন এবং বরফের ভেতরের পানির পরিমাণ— সবই হিমবাহের স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব ফেলে।

তাপমাত্রা বাড়লে হিমবাহের ওপরের অংশে বরফ গলার হার বাড়তে পারে। গলিত পানি ফাটল দিয়ে নিচে ঢুকে হিমবাহের ভেতর বা তলায় চাপ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে ফাটলগুলো বড় হয়ে বরফের একটি অংশকে দুর্বল করে দিতে পারে।

হিমবাহের নিচে পানি জমে গেলে বরফ ও পাথরের মধ্যকার ঘর্ষণ কমে যায়। এতে বড় বরফের অংশ পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। একবার ধস শুরু হলে বরফের সঙ্গে পাথর, মাটি ও পানি যুক্ত হয়ে ধ্বংসপ্রবাহের আকার নেয়। ফলে প্রাথমিক ধসের তুলনায় নিচের দিকে এর পরিধি ও ধ্বংসক্ষমতা অনেক বেড়ে যেতে পারে।

পানির কারণে বিপদ বাড়ে

হিমবাহ ধসের সঙ্গে পানি যুক্ত হলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। বরফ গলে তৈরি পানি হিমবাহের ফাটল বা নিচের অংশে জমতে পারে। আবার ধসের সময় বরফ ও পাথরের সঙ্গে থাকা পানিও নিচে নেমে আসে।

ধসের উপাদান নদীতে গিয়ে পড়লে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ আটকে যেতে পারে। এতে অস্থায়ী প্রাকৃতিক বাঁধ তৈরি হয়। পরে সেই বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পানি একসঙ্গে নিচের দিকে প্রবাহিত হয়। পানির সঙ্গে কাদা, বরফ ও পাথর মিশে তৈরি হয় অত্যন্ত ভারী ও দ্রুতগতির ধ্বংসপ্রবাহ।

এ ধরনের স্রোতে ঘরবাড়ি, সেতু, রাস্তা, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। 

ইতালির মারমোলাদা 

২০২২ সালের ৩ জুলাই ইতালির ডোলোমাইটস পর্বতমালার মারমোলাদা হিমবাহে ভয়াবহ বরফধসের ঘটনা ঘটে। এতে ১১ জন নিহত ও সাতজন আহত হন।

প্রায় ৭০ হাজার ৪০০ ঘনমিটার বরফ, পানি ও সূক্ষ্ম ধ্বংসাবশেষ পাহাড় থেকে নেমে আসে। ধসটি প্রায় ২ দশমিক ৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এবং কোনো কোনো অংশে এর গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।

ঘটনার আগে ওই এলাকায় অস্বাভাবিক তাপমাত্রা ছিল। গবেষণায় দেখা যায়, ২০২২ সালের মে ও জুনে তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদি গড়ের তুলনায় অনেক বেশি ছিল। এতে প্রায় ১৫ হাজার ঘনমিটার পানি বরফ গলার মাধ্যমে তৈরি হয়। এর বড় একটি অংশ হিমবাহের ফাটলের মধ্যে জমে ছিল।

গবেষকদের মতে, ফাটলে জমে থাকা পানির চাপ হিমবাহের নিচের ঘর্ষণ কমিয়ে দেয়। এতে হিমবাহের একটি অংশ অস্থিতিশীল হয়ে আকস্মিকভাবে ভেঙে পড়ে।

সুইজারল্যান্ডের ব্লাটেন 

২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডের আলপস পর্বতমালার ব্লাটেন গ্রামে ভয়াবহ হিমবাহ ধসের ঘটনা ঘটে। একটি বিশাল হিমবাহ ও পাহাড়ি ধ্বংসাবশেষ নেমে এসে গ্রামের বড় অংশ ঢেকে দেয়।

তবে দুর্ঘটনার আগে প্রায় ৩০০ বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। ফলে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়।


ধসের ধ্বংসাবশেষ প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং লোঞ্জা নদীর প্রবাহ আটকে দেয়। নদীর পানি জমে সেখানে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়।

এই ঘটনা আলপস অঞ্চলের পারমাফ্রস্ট নিয়েও উদ্বেগ বাড়ায়। পারমাফ্রস্ট হলো এমন মাটি, শিলা বা পলি যা টানা অন্তত দুই বছর শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে জমাট অবস্থায় থাকে। তাপমাত্রা বাড়লে এটি দুর্বল হয়ে পাহাড়ের ঢালকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।

রাশিয়ার কোলকা 

২০০২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাশিয়ার ককেশাস পর্বতমালায় কোলকা হিমবাহের ধস ঘটে। মাউন্ট জিমারাই-খোখের ঢাল থেকে পাথর ও ঝুলন্ত হিমবাহের বিশাল অংশ কোলকা হিমবাহে আছড়ে পড়ে। এরপর বরফ, তুষার, পাথর ও কাদার বিশাল স্রোত জেনালডন নদীর উপত্যকায় নেমে আসে।

প্রায় ২৪ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে সেই ধ্বংসপ্রবাহ জনবসতিতে আঘাত হানে। অন্তত ১২৫ জন মারা যান বা নিখোঁজ হন। পরে মাত্র ২০টি মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

গবেষকদের হিসাবে, উপত্যকায় ১০ কোটি ৫০ লাখ থেকে ১২ কোটি ৫০ লাখ ঘনমিটার বরফ ও পাথর জমা হয়েছিল। সিসমিক রেকর্ড ও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঘড়ির তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা ধারণা করেন, ধসের প্রধান স্রোতের গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।

কোলকা হিমবাহে এর আগেও বড় ধস হয়েছিল। ১৯০২ সালে সেখানে ধসে ৩২ জন মারা যান। ১৯৬৯ সালেও হিমবাহটি দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে।

ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি 

২০২১ সালে ভারতের উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় হিমবাহের একটি অংশ ভেঙে পড়ার পর ভয়াবহ বন্যা হয়। এতে ২০০ জনের বেশি মানুষ মারা যান বা নিখোঁজ হন। ধ্বংস হয়ে যায় দুটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

গবেষণায় ওই ঘটনাকে প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ ঘনমিটার পাথর ও হিমবাহের বরফের ধস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পাহাড় থেকে নেমে আসা এসব উপাদান পরে পানি ও ধ্বংসাবশেষের দ্রুত স্রোতে পরিণত হয়।

চামোলির ঘটনা দেখিয়ে দেয়, হিমবাহ ধসের প্রভাব শুধু ধসের স্থানের আশপাশে সীমাবদ্ধ থাকে না। নদীর গতিপথ ধরে তা বহু দূরের জনবসতি ও অবকাঠামোতেও আঘাত হানতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা কতটা 

হিমবাহ ধসের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রতিটি ঘটনাকে সরাসরি এর ফল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভূমিকম্প, পাহাড়ের ঢাল, পাথরের গঠন, তুষারপাত, তাপমাত্রা, বরফের ভেতরের পানি এবং হিমবাহের নিচের পরিস্থিতি—বিভিন্ন কারণ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।

তবে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে হিমবাহ দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। তাপমাত্রা বাড়লে হিমবাহ গলে ছোট হয়, নতুন হিমবাহ-হ্রদ তৈরি হতে পারে এবং বরফের জায়গায় পানির পরিমাণ বাড়তে পারে। একই সঙ্গে পাহাড়ের দীর্ঘদিন জমাট থাকা মাটি ও শিলার স্থিতিশীলতাও কমে যেতে পারে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক দশকে নেপালের পাহাড়ে বরফের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলোও দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

আগাম সতর্কতা কেন কঠিন 

হিমবাহ ধসের আগে সব সময় স্পষ্ট কোনো সতর্ক সংকেত পাওয়া যায় না। কোথাও ফাটল দেখা দিতে পারে, কোথাও বরফের গতি বাড়তে পারে, আবার কোথাও পানির চাপ তৈরি হতে পারে। কিন্তু এসব পরিবর্তন অনেক সময় ধীরে ঘটে এবং খালি চোখে শনাক্ত করা কঠিন।

মারমোলাদা নিয়ে গবেষণাতেও দেখা যায়, ধসের কয়েক দিন আগে বড় ধরনের গর্জন, হঠাৎ গতি বৃদ্ধি বা নতুন বড় ফাটলের মতো স্পষ্ট সংকেত পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে ওই হিমবাহে পর্যাপ্ত যন্ত্রগত পর্যবেক্ষণও ছিল না।

তাই ঝুঁকি নির্ধারণে তাপমাত্রা, বরফের গতি, ফাটলের পরিবর্তন, পানির চাপ ও ভূকম্পনসহ বিভিন্ন তথ্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

স্যাটেলাইটের গুরুত্ব 

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা কঠিন। এ কারণে হিমবাহের পরিবর্তন শনাক্ত করতে স্যাটেলাইট এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি।

কোলকা বিপর্যয়ের পর নাসার টেরা স্যাটেলাইট, ল্যান্ডস্যাট, বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট এবং আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনের ছবি ব্যবহার করে ধসের আগে ও পরের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করা হয়েছিল। এমনকি ধসের মাত্র সাড়ে আট ঘণ্টা আগে তোলা ল্যান্ডস্যাটের ছবিও পরে গবেষণায় ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানে উচ্চ রেজল্যুশনের স্যাটেলাইটের পাশাপাশি ড্রোন, রাডার, জিপিএস, তাপমাত্রা সেন্সর ও ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমেও ঝুঁকিপূর্ণ হিমবাহের পরিবর্তন শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

একই সঙ্গে কয়েকটি দুর্যোগ 

নেপালের সাম্প্রতিক ঘটনা হিমবাহ ধসের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে এনেছে। একটি ধস থেকে পরপর কয়েকটি বিপর্যয়ের সৃষ্টি হতে পারে।

হিমবাহ ভেঙে পাথর ও বরফ নদীতে পড়ল। নদীর প্রবাহ আটকে গেল। তৈরি হলো প্রাকৃতিক বাঁধ। পরে সেই বাঁধ ভেঙে বিপুল পানি ও ধ্বংসাবশেষ নিচের দিকে ছুটে গেল।


এই ধরনের ধারাবাহিক বিপর্যয়কে ‘ক্যাসকেডিং ডিজাস্টার’ বলা হয়। ফলে শুধু হিমবাহ পর্যবেক্ষণ করাই যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে নদী, হিমবাহ-সংলগ্ন হ্রদ, পাহাড়ের ঢাল, সেতু, রাস্তা ও জনবসতিকেও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার আওতায় রাখতে হয়।

নেপালে এ ঝুঁকি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে দুই হাজারের বেশি হিমবাহ-হ্রদ রয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২১টি সম্ভাব্য বিপজ্জনক হিসেবে বিবেচিত।

সামনে যে চ্যালেঞ্জ 

হিমবাহ পাহাড়ি অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক জলাধার। বরফ গলে উষ্ণ মৌসুমে নদীতে পানি যোগ করে। কিন্তু উষ্ণতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হিমবাহের আকার ও গঠন বদলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে নতুন হ্রদ তৈরি, বরফ গলা এবং পাহাড়ের ঢালের স্থিতিশীলতা কমে যাওয়ার মতো পরিবর্তনও দেখা যাচ্ছে।

কোলকা, মারমোলাদা, চামোলি ও ব্লাটেনের ঘটনা হিমবাহ ধসের ভিন্ন ভিন্ন ঝুঁকি দেখিয়েছে। কোথাও অতিরিক্ত গলন ধসের পরিস্থিতি তৈরি করেছে, কোথাও বরফের সঙ্গে পাথর নেমে এসেছে, আবার কোথাও নদীর প্রবাহ আটকে গিয়ে পরবর্তী বন্যার কারণ হয়েছে।

তাই হিমবাহ ধসকে শুধু বরফ ভেঙে পড়ার ঘটনা হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত ঝুঁকি বোঝা যায় না। একটি ধস কীভাবে নদী, পাহাড় ও জনবসতিকে একসঙ্গে প্রভাবিত করতে পারে, সেটিও বিবেচনায় নিতে হয়।

হিমবাহ ধস পুরোপুরি ঠেকানো সম্ভব না হলেও উন্নত পর্যবেক্ষণ, স্যাটেলাইট নজরদারি, আগাম সতর্কতা এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষকে সময়মতো সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে প্রাণহানি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   হিমবাহ ধস  ঘটনা  চমক  বিশ্ব 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: