উৎসবের আগে বাড়তি মেদ ঝরিয়ে ফিট হওয়ার পাশাপাশি ত্বকে প্রাকৃতিক জেল্লা ফুটিয়ে তুলতে অনেকেই বড় ভুল করে বসেন। না বুঝে ক্রাশ ডায়েট বা খাওয়া-দাওয়া একদম কমিয়ে দেওয়ায় ওজন হয়তো কিছুটা কমে, কিন্তু ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক, কালচে ও নিস্তেজ। পুষ্টিবিদদের মতে, না খেয়ে না থেকে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সঠিক খাবারগুলো রাখলে সহজেই মেদ ঝরানো সম্ভব এবং ভেতর থেকে ত্বকের লাবণ্য ফুটিয়ে তোলা যায়।
শসা ও লেবুর ডিটক্স পানীয়
শসায় ক্যালরি প্রায় নেই বললেই চলে এবং এর প্রায় ৯৬ শতাংশই পানি। এটি মেটাবলিজম বাড়াতে ও দীর্ঘক্ষণ পেট ভরিয়ে রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, লেবুর ভিটামিন সি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদন বাড়িয়ে কালো দাগ দূর করে এবং শরীর থেকে টক্সিন বা বিষাক্ত উপাদান বের করে প্রাকৃতিকভাবে ত্বক উজ্জ্বল করে।
টক দই
ওজন কমাতে টক দই অত্যন্ত সহায়ক। এতে থাকা প্রোবায়োটিকস হজমশক্তি উন্নত করে এবং পেটের চর্বি কমাতে সাহায্য করে। এছাড়া এর উচ্চ প্রোটিন বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং টক দইয়ের ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বকের মৃত কোষ দূর করে ভেতর থেকে উজ্জ্বলতা আনে।
গ্রিন টি
দিনে দুবার গ্রিনটি পান করলে এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের মেদ দ্রুত গলাতে ও মেটাবলিজম বাড়াতে কাজ করে। এর শক্তিশালী অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের বলিরেখা ও বয়সের ছাপ পড়তে দেয় না।
চিয়া সিড ও তিসির বীজ
আঁশ ও প্রোটিনে ভরপুর এই বীজগুলো পানিতে ভিজিয়ে খেলে পেটের ভেতর ফুলে ওঠে, ফলে সহজে ক্ষুধা পায় না এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে। এতে থাকা প্রচুর ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড শুষ্ক ত্বক নরম, মসৃণ ও আর্দ্র রাখে।
টমেটো ও গাজরের স্যুপ বা সালাদ
কম ক্যালরি এবং উচ্চ আঁশযুক্ত এই সবজিগুলো শরীরে চর্বি জমতে বাধা দেয়। গাজরের বিটা-ক্যারোটিন এবং টমেটোর লাইকোপেন উপাদান সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা করে ন্যাচারাল সানস্ক্রিন হিসেবে কাজ করে এবং ত্বকে গোলাপি আভা এনে দেয়।
কাঠবাদাম ও আখরোট
বিকেলের স্বাস্থ্যকর স্ন্যাক্স হিসেবে একমুঠো বাদাম খেতে পারেন। এগুলো শরীরে ভালো ফ্যাটের জোগান দিয়ে ক্ষতিকর চর্বি ঝরাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বাদামের ভিটামিন ই ও জিংক ত্বকের কোষ পুনর্গঠন করে ত্বক টানটান ও সতেজ রাখে।
যা বর্জন করা জরুরি
ওজন ও ত্বকের উজ্জ্বলতার প্রধান শত্রু হলো অতিরিক্ত চিনি, ময়দা এবং ডুবো তেলে ভাজা খাবার। এগুলো রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে ওজন বাড়ায় এবং ত্বকে ব্রণ ও কালচে ভাব তৈরি করে। কাঙ্ক্ষিত ফল পেতে খাদ্যতালিকা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং রাতে অন্তত ৮ ঘণ্টা ঘুমানোর অভ্যাস করুন।
সময়ের আলো/জোই