নেপালের ভয়াবহ বন্যায় যখন চারদিকে ধ্বংসস্তূপ আর হাহাকার, তখন ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৯৭ বছর বয়সী এক বৃদ্ধার জীবিত উদ্ধারের দৃশ্য হয়ে উঠেছে আশার প্রতীক। গুনা মায়া বোহারা নামের ওই নারীকে প্রায় চার ঘণ্টার অভিযানের পর উদ্ধার করে পুলিশ ও নেপালি সেনাবাহিনী।
উদ্ধারের পর একটি খননযন্ত্রের বালতিতে বসে থাকা গুনা মায়ার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। কাদায় মাখা পোশাক, ক্লান্ত মুখ আর চারপাশের ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যে তাঁর বেঁচে ফেরার দৃশ্য নেপালের ভয়াবহ বন্যার অন্যতম প্রতীক হয়ে উঠেছে।
বন্যার পানিতে যে পরিচর্যা কেন্দ্রে তিনি থাকতেন, সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলে তার নিচে আটকা পড়েন গুনা মায়া। খবর পেয়ে পুলিশ ও নেপালি সেনাবাহিনীর সদস্যরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় তাঁকে ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত বের করে আনেন উদ্ধারকারীরা।
গুনা মায়াকে উদ্ধারে কাঠমান্ডু থেকে ছুটে যান তাঁর নাতির ছেলে দীপক বোহারা। বিবিসি নেপালিকে তিনি জানান, উদ্ধার হওয়ার পর গুনা মায়াকে দেখে মনে হচ্ছিল, যেন যুদ্ধ শেষে বিজয়ী কোনো ‘যোদ্ধা’ ফিরে এসেছেন।
দীপক বলেন, ‘আমার ভাই ও ছেলে গাছের সঙ্গে দড়ি বেঁধে আরও সামনে এগিয়ে যায়। তারা জানায়, দাদি এখনো বেঁচে আছেন। তবে সেখানে আরও অনেকেই মারা গেছেন বলে মনে হচ্ছে।’
ধ্বংসস্তূপের নিচে এত দীর্ঘ সময় কীভাবে গুনা মায়া বেঁচে ছিলেন, তা তিনি নিজেও ব্যাখ্যা করতে পারছেন না। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন।
বন্যার ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেও তাঁর এই বেঁচে ফেরার ঘটনা নেপালজুড়ে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে। খননযন্ত্রের বালতিতে করে ধ্বংসস্তূপ পেরিয়ে নিরাপদ স্থানে নেওয়া ৯৭ বছর বয়সী গুনা মায়ার দৃশ্য এখন ভয়াবহ এই দুর্যোগের মানবিক মুখ হয়ে উঠেছে।
বুধবার হিমবাহ ধসে নেপালের রাসুয়া জেলায় ভোতে কোশি নদীতে আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। এতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। উদ্ধার অভিযান চললেও এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
সময়ের আলো/কেএইচ