মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে শাসন করায় শিক্ষিকাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষার্থীর স্বজনদের বিরুদ্ধে। রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর বাউশিয়া আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় রোববার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
হামলায় আহত শিক্ষিকার নাম জান্নাতুল ফেরদৌস (৩৩)। তিনি উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের মধ্য বাউশিয়া আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের আরবি বিষয়ের শিক্ষক।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার মর্নিং শিফটে প্রথম শ্রেণির ক্লাস চলাকালীন শিক্ষার্থী সিনথিয়া আক্তার এক সহপাঠীর সাথে দুষ্টামি করলে তাকে ধমক দেন শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস। বিষয়টি জানতে পেরে সিনথিয়ার স্বজনরা ওই দিনই স্কুলে এসে ওই শিক্ষিকাকে গালমন্দ করেন। পরে প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন বিষয়টি সমাধান করে দেন।
তবে ঘটনার জের ধরে রোববার স্কুল ছুটির পর ওত পেতে থাকা সিনথিয়ার স্বজনরা শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌসের পথরোধ করে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুসি ও লাথি মারতে থাকে। এক পর্যায়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে আহত করা হয় এবং পরনের কাপড় ছিঁড়ে শ্লীলতাহানি করা হয়। এমনকি শিক্ষিকা আত্মরক্ষার্থে পালানোর চেষ্টা করলে শিক্ষার্থী সিনথিয়ার নানি তার কানে কামড়ে দেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
পরবর্তীতে শিক্ষিকার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতাল পাঠানো হয় বলেও জানা গেছে।
মারধরের শিকার শিক্ষিকা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে শিক্ষার্থী সিনথিয়ার মা সাথী, মামা মারুফ ও নানি মোরশেদা আমার পথরোধ করে হামলা চালায়। তারা আমাকে মারধর করে জামাকাপড় ছিঁড়ে ফেলে। আমার অপরাধ ছিল আমি মঙ্গলবার ওই শিক্ষার্থীকে শুধু একটি ধমক দিয়েছিলাম।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মনির হোসেন বলেন, মঙ্গলবারই বিষয়টি সমাধান হয়ে গিয়েছিল বলে আমরা ভেবেছিলাম। আজ পরিকল্পিতভাবে স্কুল ছুটির পর শিক্ষিকার ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে। আমি এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
অভিযোগ প্রসঙ্গে শিক্ষার্থী সিনথিয়ার নানি মোরশেদা বেগম জানান, শিক্ষিকা সেদিন তার নাতনিকে মারধর করেছিলেন। আজ রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় ওই শিক্ষিকা তাদের গালমন্দ করায় তার সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানা গেছে, আহত ওই শিক্ষিকা বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তবে তারা আঘাত গুরুতর নয়।
গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নকীব আকরাম হোসেন জানান, খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা