যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের কাওয়ামারা বটতলা এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় বালুভর্তি একটি বাল্কহেড জব্দ করেছে পুলিশ। সংঘর্ষের সময় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগ উঠলে তা অস্বীকার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের সূত্রে জানা গেছে, পিংনা ইউনিয়নের রসপাল মৌজায় যমুনা নদী থেকে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর এক পক্ষের নেতৃত্বে সাবেক ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা সুভাষ সরকার এবং অপর পক্ষের নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি সমর্থক আনিছুর রহমান আনিছ।
স্থানীয়দের দাবি, বালু উত্তোলন ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত। সুভাষ সরকারের নেতৃত্বাধীন একটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে রসপাল মৌজা থেকে বালু উত্তোলন করে আসছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরদিকে, আনিছুর রহমান আনিছের পক্ষও ওই এলাকায় বালু উত্তোলন করত এবং সুভাষের পক্ষের বালু উত্তোলনে বাধা দিয়ে আসছিল।
শনিবার সন্ধ্যার দিকে একটি বালুভর্তি বাল্কহেডকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে রাত ৯টার দিকে কাওয়ামারা বটতলা এলাকায় উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, সংঘর্ষের সময় সুভাষ সরকারের পক্ষ থেকে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। তবে পুলিশের দাবি, গুলি ছোড়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাজহারুল ইসলাম মুকুল (৫৫), আনিছুর রহমান আনিছ (৪০), পিংনা ইউনিয়ন বিএনপির অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ মিয়া (৬০), ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য চান মিয়া (৬০), বাবু মিয়া (৩৫), হুমায়ুন (৪৫), সুভাষ সরকার (৩১), বায়েজিদ (৩৮), সামাল (৩০), শিবলু মিয়া (৩৭) ও সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম (৩৮)। আহতদের সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক আশরাফুল নাহার বৃষ্টি জানান, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে পুলিশ জব্দ করার পর বালুভর্তি বাল্কহেডটি সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে মাহবুবুল, হারুন অর রশিদ ও আজম নামের তিন শ্রমিক বাল্কহেডটি নিতে গেলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে তারাকান্দি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ জাহাঙ্গীর আলমের কাছে সোপর্দ করেন বলে জানা গেছে।
তবে গুলি ছোড়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সুভাষ সরকার। তিনি বলেন, কাজীপুর থেকে বালুভর্তি বাল্কহেডটি সরিষাবাড়ীর দিকে আসার পর সেটি পুড়িয়ে দেওয়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থলে যান। সেখানে যাওয়ার পর তার ও তার লোকজনের ওপর হামলা করা হয়। তাদের পক্ষ থেকে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।
অপর পক্ষের আনিছুর রহমান আনিছ ও মাজহারুল ইসলাম মুকুলের অভিযোগ, সুভাষ সরকার ও তার লোকজন প্রভাব খাটিয়ে রসপাল মৌজায় জেগে ওঠা ভূমি এবং কৃষকদের আবাদি জমির আশপাশ থেকে বালু উত্তোলন করে আসছেন। এতে বাধা দিতে গেলে কৃষক ও স্থানীয়দের ওপর হামলা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ এবং সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ফাঁকা গুলি ছোড়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সময়ের আলো/এনএন/আতা