পরিবেশবান্ধব সোনালি আঁশ পাটের সুদিন ফিরছে বরিশালে। চলতি মৌসুমে পাট চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষি বিভাগের সঠিক নির্দেশনায় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। শুধু ফলনই নয়, বাজারে পাটের ভালো দামে বিগত বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার লাভের মুখ দেখছেন চাষিরা।
চলতি অর্থ বছরে বরিশালে উন্নত জাতের পাট চাষে এসেছে ব্যাপক সাফল্য। সোনালি আঁশের বাম্পার ফলনের পাশাপাশি বাজারে মিলছে কাঙ্ক্ষিত দাম। বিগত কয়েক বছরের লোকসান কাটিয়ে এবার লাভের মুখ দেখায় মুখে হাসি ফুটেছে এই অঞ্চলের শত শত কৃষকের মুখে।
বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রফিয়াদি গ্রাম। এখানে প্রতিবছরের মতো এবছরও জলিল চৌকিদার পাটের আবাদ করেছেন। এবার তিনি মাঠ থেকে প্রায় ৫০ মন পাট পেয়েছেন। স্বল্প খরচে অধিক ফলন হওয়ায় খুশি জলিল চৌকিদার। গত বছর যেখানে ১৭শ থেকে ১৯ টাকা প্রতিমণ পাট বিক্রি হয়েছে, এ বছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২শ থেকে চার হাজার টাকা।
এ বিষয়ে জলিল চৌকিদার বলেন, একসময় পাটের খুব কদর ছিল। গ্রাম বাংলার বেশিরভাগ কৃষক পাট চাষ করত। কিন্তু পাটের দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা তেমন চাষ করে না কিন্তু বর্তমানে আবারও পাটের সুদিন ফিরেছে। স্বল্প খরচে বেশি লাভ হচ্ছে।
আরজি কালিকাপুর গ্রামের রহিম বলেন, এবছর মাঠে পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। দামও ভালো পাচ্ছি। এভাবে দাম থাকলে আমাদের জন্য ভালো।
বাচ্চু খান নামের আরেক কৃষক বলেন, গত কয়েক বছর পাটের দাম পাই নাই, খরচই ওঠে নাই। কিন্তু এইবার বিনা তোষা পাট রোপণ করে বিঘায় ১০-১২ মণ করে ফলন পেয়েছি। বাজারের দামও খুব ভালো, আমরা খুব খুশি।
বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত। বাজারে প্লাস্টিক বর্জনের সরকারি কড়াকড়ি এবং পাটের চটের চাহিদা বাড়ায় ব্যাপারীরাও প্রতিযোগিতা করে ভালো দামে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে পাট কিনছেন।
বরিশাল জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য মতে, চলতি বছর বরিশাল জেলায় ১২ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত ১২ হাজার ২০৩ হেক্টর জমির পাট কর্তন করা হয়েছে। এ বছর পাটের মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ৫৯১ হেক্টর।
বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে দেওয়া তথ্য বলছে, বরিশাল সদরে ৯২০ হেক্টর, বাবুগঞ্জ উপজেলায় ২ হাজার ১০০ হেক্টর, উজিরপুরে ২১৫ হেক্টর, বাকেরগঞ্জে ৪ হেক্টর, গৌরনদীতে ৬৫৫ হেক্টর, আগৈলঝাড়ায় ৭০ হেক্টর, মুলাদীতে ৩ হাজার ১৭০ হেক্টর, হিজলায় ১ হাজার ৮৩০ হেক্টর, মেহেন্দীগঞ্জে ৩ হাজার ৪৯০ হেক্টর এবং বানারীপাড়ায় ৫২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
এ বছর উন্নত জাতের পাটের পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল ‘বিনা তোষা পাট-১’ এর ও বাম্পার ফলন হয়েছে।
অনুকূল আবহাওয়া আর সময়মতো বৃষ্টিপাত হওয়ায় পাট জাগ দিতেও এবার কোনো বেগ পেতে হয়নি চাষিদের। ফলে আঁশের রং হয়েছে উজ্জ্বল এবং গুণগত মানও হয়েছে চমৎকার বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বরিশাল খামার বাড়ির উপ-পরিচালক মোসাম্মৎ মরিয়ম বেগম জানান, পাট চাষিদের জন্য আমরা নানা ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকি। বরিশালে পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। আমরা চাষিদের সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করি।
সঠিক সরকারি তদারকি, উন্নত বীজ আর ন্যায্য বাজার মূল্য বজায় থাকলে সোনালি আঁশ আবারও দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
সময়ের আলো/আতা