গাজীপুরের শ্রীপুরে গাজীপুর মুজিব সাফারি পার্কে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করাকে কেন্দ্র করে দর্শনার্থী ও পার্কের কর্মীদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নারী দর্শনার্থীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর দর্শনার্থী ও পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে শ্রীপুর থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় পার্কের আউটসোর্সিং কর্মী মো. ফরহাদকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে গাজীপুর সাফারি পার্কের কোর সাফারি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই পার্কজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আহতরা হলেন রাজধানীর বারিধারা নতুন বাজার এলাকার সালমা হোসেন (৪৪), তার দুই ছেলে আহনাফ মাহিন (১৭) ও জারিফ (১৫), গাড়িচালক মো. রাসেল (২৫) এবং পার্কের আউটসোর্সিং কর্মী মো. মমিন ও মাসুদ রানা।
ঘটনার পর শনিবার রাতে দর্শনার্থী সালমা হোসেন বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। তার অভিযোগের ভিত্তিতে রাতেই মামলা রুজু হয়েছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, রোববার সকালে সাফারি পার্কের কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বাদী হয়ে দর্শনার্থী নারীসহ চারজনের বিরুদ্ধে থানায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন।
দর্শনার্থীর অভিযোগ সালমা হোসেনের অভিযোগ করে বলেন, শনিবার দুপুরে তিনি তার দুই ছেলে আহনাফ মাহিন ও জারিফকে নিয়ে গাজীপুর সাফারি পার্কে বেড়াতে যান। কোর সাফারির দর্শনার্থীদের বহনকারী বাসের ভেতরে ময়লা ও আবর্জনা দেখতে পেয়ে তিনি তা পরিষ্কার করার জন্য পার্কের কর্মীদের অনুরোধ করেন।
এ সময় পার্কের কর্মীদের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে কর্মীরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ করেন সালমা। পরে সঙ্গে থাকা স্টিলের রড দিয়ে তার দুই ছেলে ও গাড়িচালক রাসেলকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সালমার দাবি, এ সময় তার পরিবারের সদস্যদের মারধর করে আহত করার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে থাকা প্রায় তিন ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়েছে। একই সঙ্গে নগদ ৮০ হাজার টাকা খোয়া গেছে বলেও তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেছেন।
পার্ক কর্তৃপক্ষ দর্শনার্থীর এসব অভিযোগ অস্বীকার করে গাজীপুর সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. তারেক রহমান বলেন, বাসে ময়লা থাকা নিয়ে পার্কের একজন কর্মচারীর সঙ্গে দর্শনার্থীদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দর্শনার্থীদের একজন সন্তান ওই কর্মচারীকে মারধর করেন।
তিনি বলেন, পরে বিষয়টি মীমাংসার জন্য দর্শনার্থীদের পরিদর্শন শেষে পার্ক অফিসে নিয়ে বসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু সেখানে গিয়েও তারা উত্তেজিত হয়ে হামলা চালান। এতে পার্কের দুই কর্মচারী আহত হন। তারা চিকিৎসা নিয়েছেন। আরও তিনজন আহত হলেও তাদের গুরুতর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়নি, স্থানীয় একটি ক্লিনিকে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় পার্ক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, বন বিভাগের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় মো. মমিন নামে এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে দর্শনার্থী নারী ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনের বিরুদ্ধে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম. কে. এম. ইকবাল হোছাইন চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, তাদের মো. মমিন নামের একজন স্টাফ হামলায় আহত হয়েছেন। তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, স্টাফকে আহত করার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার জন্য ওই পর্যটকদের পার্ক অফিসে আনা হয়। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে আবারও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় বন বিভাগের আউটসোর্সিং কর্মী মো. ফরহাদকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, ঘটনা জানার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একটি বিনোদনকেন্দ্রে বেড়াতে গিয়ে দর্শনার্থী ও কর্মীদের মধ্যে এমন সংঘর্ষের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, পার্কের কর্মীদের আচরণ এবং দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন অনেকে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
সময়ের আলো/আতা