নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় দিলু আরা (৪০) নামের এক গৃহবধূকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তাকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত যুবক এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।
রোববার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বৈরাটি ইউনিয়নের লালচাপুর গ্রামে চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত গৃহবধূ দিলু আরা ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী এনামুল হকের স্ত্রী। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবুল মিয়া (৩০) একই গ্রামের জাহাঙ্গীর চৌধুরীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিবেশী বাবুল মিয়ার কাছ থেকে সম্প্রতি আমগাছের কিছু লাকড়ি কিনেছিলেন দিলু আরা। রোববার সন্ধ্যায় সেই লাকড়ির পাওনা টাকা পরিশোধ করার জন্য তিনি বাবুল মিয়ার বাড়িতে যান। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে একা পেয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে বাবুল মিয়া তার ওপর চড়াও হন। এ সময় দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে দিলু আরার ওড়না দিয়েই গলায় পেঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধ করেন বাবুল। পরে তাকে গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় বাড়ির পাশের আজিজুলের বাঁশঝাড়ের জঙ্গলে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্ত।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পুলিশ পরিদর্শক) সেন্টু মিয়া এবং তার সঙ্গীয় ফোর্স। স্থানীয়দের সহায়তায় তারা দিলু আরাকে উদ্ধার করেন। উদ্ধারের সময় তার শ্বাস-প্রশ্বাস চলমান ছিল। দ্রুত তাকে চিকিৎসার জন্য ২৫০ সহ্য বিশিষ্ট নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে শেষ রক্ষা হয়নি, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, শ্যামগঞ্জ পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের জন্য মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে পলাতক অভিযুক্ত বাবুল মিয়াকে আটকে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সময়ের আলো/জোই