বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নে প্রায় ৯৬ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক পশ্চিম বারইখালী জামে মসজিদটি চরম জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাব এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা না পাওয়ায় বর্তমানে মসজিদটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
উনিশ শতকের দিকে স্থানীয় জনসাধারণের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী এই মসজিদটি পরবর্তীতে সেমিপাকা রূপ লাভ করে। দীর্ঘকাল ধরে এই ভবনেই মুসল্লিরা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে আসছেন। বর্তমানে ভবনটির বিভিন্ন দেয়ালে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে, ছাদের পলেস্তরা খসে পড়ছে এবং জরাজীর্ণ টিনের চাল দিয়ে বৃষ্টির পানি পড়ে। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে, যা পলিথিন টাঙিয়েও রোধ করা যায় না। ফলে মুসল্লিদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এছাড়া পর্যাপ্ত ওজু ও স্বাস্থ্যসম্মত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থারও তীব্র সংকট রয়েছে।
স্থানীয় মুসল্লি জাকির হোসেন, সোহেল হাওলাদার, নুরুজ্জামান ও মোশারফ হাওলাদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের সীমিত সামর্থ্য দিয়ে মসজিদটি টিকিয়ে রাখা হলেও এখন ছাদ নির্মাণ, দরজা-জানালা স্থাপন ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের মতো বড় কাজ করা তাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।
মসজিদের ইমাম ও খতিব তৈয়বুর রহমান তোহা এবং মসজিদ কমিটির সভাপতি আব্দুল খালেক ফকির জানান, পর্যাপ্ত তহবিলের অভাবে জরুরি সংস্কার কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করতে হয়।
এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটিকে ঝুঁকিমুক্ত করতে এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারি সাহায্য, বেসরকারি সংস্থা এবং দেশের বিত্তবান দানশীল ব্যক্তিদের আর্থিক ও নানামুখী সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সময়ের আলো/জোই