খার্গ দ্বীপে হামলার ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিল ইরান, বলল ‘হাস্যকর’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের এক শীর্ষ জ্বালানি কর্মকর্তা এই

2026-08-31T17:01:00+00:00
2026-08-31T17:01:00+00:00
 
  সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬,
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩
সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
খার্গ দ্বীপে হামলার ট্রাম্পের দাবি উড়িয়ে দিল ইরান, বলল ‘হাস্যকর’
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ৫:০১ পিএম 
ইরানের বান্দার আব্বাসের সৈকতের কাছ থেকে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজ দেখা যাচ্ছে। সংগৃহীত ছবি
ইরানের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলার দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে ইরানের এক শীর্ষ জ্বালানি কর্মকর্তা এই দাবিকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহ পর আবারও সরাসরি সংঘাত শুরু হয়েছে। 

ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল রফতানি কেন্দ্র খার্গ দ্বীপে হামলার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ইরানের সরকারি মালিকানাধীন ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানির প্রধান নির্বাহী হামিদ বোভার্ড ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টকে ‘হাস্যকর’ বলে মন্তব্য করেছেন। 

রোববার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ট্রুথ সোশ্যালে খার্গ দ্বীপে ব্যাপক বিস্ফোরণের একটি ভিডিও প্রকাশ করে লিখেছিলেন, খার্গ দ্বীপকে টুকরো টুকরো করে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে!!! 

তবে ট্রাম্পের ওই পোস্টের কয়েক ঘণ্টা পর পর্যন্ত খার্গ দ্বীপে কোনো হামলা হয়েছে, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের যাচাইয়ে দেখা গেছে, পোস্টের সঙ্গে দেওয়া নাটকীয় বিস্ফোরণের ভিডিওটি সম্ভবত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।

বোভার্ড বলেন, খার্গ দ্বীপের পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক রয়েছে। সেখানে তেল উত্তোলন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। বরং কর্মীরা আগের ক্ষয়ক্ষতি মেরামত এবং বিভিন্ন স্থাপনা আধুনিকায়নের কাজ করছেন।

আবারও মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান

রোববার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জুলাইয়ের শেষের পর প্রথমবারের মতো আবারও সামরিক সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ছয় মাস ধরে চলা সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে এবং দ্রুত কোনো সমাধানের সম্ভাবনা আরও ক্ষীণ হয়ে পড়েছে।

রোববার মার্কিন বাহিনী ইরানের লারাক দ্বীপে দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণকারী স্থাপনায় হামলা চালায় বলে এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। লারাক দ্বীপটি খার্গ থেকে প্রায় ৬৬০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত।

মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে রকেট ও সমুদ্র মাইন মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। এ কারণে হামলা চালানো হয়।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে আসন্ন হুমকি তৈরি করা ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মাইন পাতা কার্যক্রমের বিরুদ্ধে তারা সীমিত ও নির্ভুল অভিযান চালিয়েছে।

ইরানের পাল্টা হামলা

মার্কিন হামলার জবাবে ইরান জর্ডানে থাকা দুটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে বলে ইরানের গণমাধ্যম জানিয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, লারাক দ্বীপে হামলায় ব্যবহৃত মার্কিন ঘাঁটিগুলোই পাল্টা হামলার লক্ষ্য ছিল।

ইরানের সেনাবাহিনী আরও দাবি করেছে, সোমবার ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। তবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই দাবি মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।

পরে সংযুক্ত আরব আমিরাত জানায়, তাদের বিমানবাহিনী ইরান থেকে আসা একটি ড্রোনকে নিজেদের আকাশসীমার ওপর শনাক্ত করে প্রতিহত করেছে। তবে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি। 

এদিকে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ড্রোনটি উপসাগরের পানিতে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উদ্বেগ 

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, দক্ষিণ হরমুজ প্রণালিতে দুটি নৌ মাইনে আঘাত পাওয়ার পর একটি সুপারট্যাংকারে আগুন ধরে যায় এবং জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে থেমে যায়। 

রেভল্যুশনারি গার্ডের দাবি, জাহাজটি অবৈধভাবে ওই জলপথ অতিক্রমের চেষ্টা করছিল। তবে জাহাজটির নাম বা এর ক্রুদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রণালিটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে আছে। 

জাহাজ চলাচলের ওপর হামলার আশঙ্কায় সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৃশ্যমান পণ্যবাহী জাহাজের সংখ্যা কমে প্রতিদিন মাত্র পাঁচটিতে নেমে আসে বলে শিপিং তথ্য থেকে জানা গেছে। তবে কিছু জাহাজ হামলা এড়াতে স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়ায় প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। 


উপসাগরীয় দেশগুলোকে লক্ষ্য করার নীতি নিয়ে সমালোচনা

সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ বলেন, উপসাগরীয় আরব দেশ ও জর্ডানকে লক্ষ্য করে ইরানের নেওয়া নীতি ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয় এমন পরিস্থিতি টেকসই সমাধান হতে পারে না। 

তার মতে, উত্তেজনা কমানো এবং হরমুজ প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে বাস্তবসম্মত রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ শুরু করা উচিত।

ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র  

যুদ্ধ শুরুর সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করেছিলেন, তার সবগুলো এখনো অর্জিত হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ভেঙে দেওয়া, আঞ্চলিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ইরানের হামলার সক্ষমতা কমানো এবং ইরানের ধর্মীয় শাসকদের ক্ষমতাচ্যুত করার মতো পরিস্থিতি তৈরি করা।

রোববারের নতুন করে সংঘাত শুরুর আগে কয়েক সপ্তাহ ধরে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক পদক্ষেপের পরিবর্তে ইরান ও দেশটির ব্যবসায়িক অংশীদারদের ওপর কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের দিকে বেশি মনোযোগ দিচ্ছিল।  

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট রয়টার্সকে জানান, ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে প্রতি সপ্তাহে নতুন করে সেকেন্ডারি নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করা হতে পারে। প্রাথমিকভাবে এসব নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্য থাকবে ব্যাংকগুলো। 

এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত সপ্তাহে ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, প্রণালির আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা সব মাইন বিস্ফোরিত বা অপসারণ করা হয়েছে এবং নতুন করে কোনো মাইন পাতা হলে সংশ্লিষ্ট জাহাজ ধ্বংস করে দেওয়া হবে। 

তবে ইরান ট্রাম্পের ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।

খার্গ দ্বীপে সত্যিই হামলা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। অন্যদিকে ইরান বলছে, দ্বীপটির তেল কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।

সূত্র : রয়টার্স 


সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   খার্গ দ্বীপ  হামলা  ট্রাম্প  ইরান  হাস্যকর 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: