যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ইরানের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা নিয়ে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।
সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে বর্তমানে কিরগিজস্তানে রয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
ফেব্রুয়ারিতে ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথম দুই নেতা সরাসরি মুখোমুখি হলেন। বৈঠকে ভারত ও ইরানের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, অর্থনীতি ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়েও কথা হয়।
বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাঘচিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
এই বৈঠক এত গুরুত্বপূর্ণ কেন?
এই বৈঠক এমন সময় হয়েছে, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও সামরিক সংঘাত শুরু হয়েছে। ফলে পুরো মধ্যপ্রাচ্যেই নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
ইরান ভারতের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদারদের একটি। কিন্তু যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে ইরান থেকে তেল ও অন্যান্য পণ্য আনা-নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এর পাশাপাশি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। এসব কারণে ভারত-ইরানের স্বাভাবিক বাণিজ্য বাধার মুখে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে মোদি ও পেজেশকিয়ানের বৈঠক দুই দেশের সম্পর্ক ঠিক রাখা এবং ভবিষ্যতে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
যুদ্ধ নিয়ে কী বললেন ইরানের প্রেসিডেন্ট?
ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান বলেছেন, ইরান যুদ্ধ চায় না। তবে কেউ ইরানের ওপর হামলা করলে তার জবাব দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিতিশীলতা কোনো দেশের জন্যই ভালো নয়। তাই সংঘাত কমিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা দরকার।
এর আগে, গত জুনেও মোদি ও পেজেশকিয়ানের মধ্যে ফোনে কথা হয়েছিল। তখন মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং কীভাবে সংঘাতের অবসান ঘটানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
মোদি তখন সংঘাত বন্ধের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে স্থায়ী শান্তির জন্য আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন।
শুধু ইরানের প্রেসিডেন্টই নয়
কিরগিজস্তানে মোদি আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ানের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন।
দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা, অর্থনীতি, ওষুধ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, সংস্কৃতি এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও তারা কথা বলেন।
পুতিনের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মোদি
কিরগিজস্তান সফরে মোদির আরও গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি রয়েছে। দিনের পরবর্তী সময়ে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারভের আমন্ত্রণে মোদি ৬ষ্ঠ বিশ্ব যাযাবর ক্রীড়ার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন।
মোদি-পেজেশকিয়ানের বৈঠকের মূল বিষয় হলো, যুদ্ধের মধ্যেও ভারত-ইরানের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখা, বাণিজ্য চালু রাখা এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির পক্ষে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করা। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল বন্ধ থাকায় জ্বালানি ও বাণিজ্যের ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, সেটিও ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
সূত্র : এনডিটিভি
সময়ের আলো/ইউএমএইচ