টানা দরপতনে নাকাল দেশের শেয়ারবাজার। আগের কার্যদিবসের বড় পতনের পরও ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি দেশের শেয়ারবাজার। গতকাল সোমবারও সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। কমেছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর, পাশাপাশি আগের দিনের তুলনায় কমেছে লেনদেনের পরিমাণও। দিনশেষে প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমার পাশাপাশি কমেছে মূল্যসূচক। সেই সঙ্গে ডিএসইতে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ।
বাজারের এমন পতনে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর কমায় বিক্রির চাপের চিত্রই স্পষ্ট হয়েছে। সেই সঙ্গে বাজারে নেতিবাচক প্রবণতা অব্যাহত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বাজারের সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা যাচ্ছে, আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকেই সূচক ধারাবাহিকভাবে নিম্নমুখী ছিল। ১১ আগস্ট ডিএসইর প্রধান সূচক ৫ হাজার ৯০৩ পয়েন্টের ওপরে থাকলেও পরে তা ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্টের নিচে নেমে এসেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ধরে সূচকের নিম্নমুখী প্রবণতা এবং অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর কমে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আস্থায় চাপ তৈরি হচ্ছে। এতে নতুন বিনিয়োগের পরিবর্তে অনেকেই অপেক্ষার কৌশল নিচ্ছেন। ফলে বাজারে ক্রয়চাপের তুলনায় বিক্রির চাপ বাড়ছে এবং লেনদেনও কাঙ্ক্ষিত গতি পাচ্ছে না।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সোমবার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মধ্য দিয়ে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের উত্থান হয়। লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টা সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকে। তবে দুপুর ১২টার পর থেকে বাজারে একের পর এক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমতে থাকে। যা অব্যাহত থাকে লেনদেনের শেষ পর্যন্ত। ফলে দাম কমার তালিকায় বেশি প্রতিষ্ঠান থাকার পাশাপাশি সবকটি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়।
দিনের লেনদেন শেষে ডিএসই সব খাত মিলে ১২৮টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। বিপরীতে ১৯২টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। আর ৬৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৬৫টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১০৮টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ৩২টি কোম্পানির শেয়ারদাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৩২টির এবং ১০টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩০টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৫২টির এবং ৩৬টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর ১৬টি মিউচুয়াল ফান্ডের দাম বাড়ার বিপরীতে ৭টির দাম কমেছে এবং ১১টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৬ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৫৯৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ৮ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ১১৩ পয়েন্টে নেমে গেছে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ১২৪ পয়েন্টে অবস্থান করছে।
মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে। বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৪৭৭ কোটি ২২ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৫১৮ কোটি ৩ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ৪০ কোটি ৮১ লাখ টাকা।
এই লেনদেনে সবথেকে বড় ভূমিকা রেখেছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের শেয়ার। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ৮৫ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম কটনের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ১৯ কোটি ৮৮ লাখ টাকার।
১৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে সায়হাম টেক্সটাইল।
এ ছাড়া ডিএসইতে লেনদেনের দিক থেকে শীর্ষ ১০টি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় রয়েছে— বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যাল, প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল, সমরিতা হসপিটাল, ফারইস্ট নিটিং, ব্র্যাক ব্যাংক, লাভেলো আইসক্রিম এবং এম এল ডাইং।
অন্য শেয়ারবাজার সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ২০২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৬১টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১৩টির দাম কমেছে এবং ২৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। এতে সিএসইর সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই কমেছে ২১ পয়েন্ট। লেনদেন হয়েছে ১৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ১১ কোটি ১ লাখ টাকা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে