কোর্টে তখন লড়াইয়ের শেষ মুহূর্ত। একদিকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা নোভাক জোকোভিচ, অন্যদিকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জয় পাওয়ার অপেক্ষায় মারিয়ানো নাভোনে। চার ঘণ্টার বেশি সময়ের লড়াই শেষে যখন শেষ পয়েন্টটি নাভোনের র্যাকেট থেকে এলো, তখন স্তব্ধ হয়ে গেল পুরো আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়াম। জোকোভিচ হেরে গেলেন, আর কোর্ট ছাড়ার সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারলেন না ২৪ গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক।
রেকর্ড ২৫তম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে ইউএস ওপেনে নামা ৩৯ বছর বয়সি জোকোভিচকে ৭-৬(৫), ৫-৭, ৪-৬, ৬-২, ৬-১ গেমে হারিয়ে দিয়েছেন আর্জেন্টিনার ২৫ বছর বয়সি মারিয়ানো নাভোনে। ৪ ঘণ্টা ৩৬ মিনিটের এই ম্যাচে জোকোভিচ একসময় ২-১ সেটে এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত শরীরের সঙ্গে লড়াই করে আর পেরে ওঠেননি।
ম্যাচজুড়ে জোকোভিচের শারীরিক অস্বস্তি ছিল স্পষ্ট। প্রচণ্ড আর্দ্রতার মধ্যে হাঁপিয়ে ওঠার পাশাপাশি একপর্যায়ে কোর্টেই বমি করেন। পরে দেখা দেয় ক্র্যাম্প। পিঠ ও কাঁধের ব্যথাও বাড়তে থাকে। তবু লড়াই চালিয়ে যান। দ্বিতীয় ও তৃতীয় সেট জিতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর মনে হচ্ছিল, আবারও হয়তো অসম্ভব প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখবেন সার্বিয়ান কিংবদন্তি। কিন্তু চতুর্থ সেটে পাল্টে যায় দৃশ্যপট। জোকোভিচের গতি ও সার্ভের ধার কমে গেলে সুযোগ নেন নাভোনে।
৬-১ ব্যবধানে সেট জিতে ম্যাচে সমতা ফেরান। এরপর নির্ধারক সেটে আরও আক্রমণাত্মক হয়ে উঠেন আর্জেন্টাইন। জোকোভিচ মাত্র একটি গেম জিততে পারেন। ৬-১ ব্যবধানে সেট জিতে নাভোনে তুলে নেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে স্মরণীয় জয়।
এই হার শুধু ইউএস ওপেন থেকেই বিদায় নয়, জোকোভিচের দীর্ঘ এক ধারারও সমাপ্তি। ২০০৬ সালের অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের পর এই প্রথম কোনো গ্র্যান্ড স্ল্যামের প্রথম রাউন্ডে হারলেন তিনি। এর আগে ইউএস ওপেনে কখনোই প্রথম ম্যাচে বিদায় নিতে হয়নি তাকে। ম্যাচ শেষে জোকোভিচ স্বীকার করেন, ‘শরীর তাকে শেষ পর্যন্ত সঙ্গ দেয়নি। তবে নাভোনের কৃতিত্বকেও খাটো করেননি।’ অন্যদিকে নিজের আদর্শকে হারিয়ে উচ্ছ্বসিত নাভোনে এটিকে স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।
জোকোভিচের বিদায়ের রাতেই আরেক কিংবদন্তির একক অভিযানও থেমে গেছে। ৪৬ বছর বয়সি ভেনাস উইলিয়ামস প্রথম রাউন্ডে স্বদেশি সোফিয়া কেনিনের কাছে ৬-২, ৭-৬(৬) ব্যবধানে হেরেছেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে