বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কোন্দল তীব্র আকার ধারণ করেছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় পৌর সদরের ঐতিহ্যবাহী মুন স্টার ক্লাবের সামনে একই সময়ে ও একই স্থানে মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছে দলটির দুই হেভিওয়েট নেতার অনুসারীরা। পাল্টাপাল্টি এই কর্মসূচিকে ঘিরে উপজেলাজুড়ে চরম উত্তেজনা ও সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সীতাকুণ্ডে বিএনপির রাজনীতি মূলত দুই ভাগে বিভক্ত।
একপক্ষে নেতৃত্ব দিচ্ছেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ছাত্রদল ও যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী সালাউদ্দিনের অনুসারীরা। তারা গত ২৭ আগস্ট কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সীতাকুণ্ড মডেল থানার ওসিকে লিখিত আবেদন জমা দেন।
অন্যদিকে রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী এবং উপজেলা সদস্য সচিব দাবিদার মোহাম্মদ মোরছালিনের নেতৃত্বাধীন অংশটি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন পেয়ে জয়ী হলেও ঋণখেলাপির দায়ে তার এমপি পদের গেজেট স্থগিত হয়। আসলাম চৌধুরীর অনুসারীরাও একই স্থানে একই কর্মসূচির পালনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আসলাম চৌধুরীর অনুসারী মোহাম্মদ মোরছালিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, সীতাকুণ্ডে আসলাম চৌধুরীর বাইরে বিকল্প চিন্তা করার কোনো সুযোগ নেই। মুন স্টার ক্লাবের অনুষ্ঠানে তিনিই প্রধান অতিথি থাকবেন।
অন্যদিকে এই দাবি নাকচ করে কাজী সালাউদ্দিন সমর্থিত কমিটির উপজেলা সদস্য সচিব কাজী মহিউদ্দিন বলেন, মোরছালিন দলের বৈধ সদস্যসচিব নন। গঠনতন্ত্রের তোয়াক্কা না করে আসলাম চৌধুরী কোনো পকেট কমিটি বানাতে পারেন না। একই সঙ্গে কাজী সালাউদ্দিন হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আমরা নিয়ম মেনে আগে থেকে আবেদনের মাধ্যমে স্থান নির্ধারণ করেছি। জোর করে ঝামেলা করতে চাইলে দায়ভার তাদেরকেই নিতে হবে।
শীর্ষ নেতাদের এই মুখোমুখি অবস্থানের কারণে সাধারণ নেতাকর্মী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে সহিংসতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশৃঙ্খলা এড়াতে কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের জ্যেষ্ঠ নেতাদের আশু হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম জানান, সংঘাত এড়াতে দুই পক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সমঝোতার চেষ্টা চলছে। তবে এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
সময়ের আলো/জোই