কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বরযাত্রীর গাড়ি থামিয়ে নববধূ তামান্না আক্তারকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি ভিডিও বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওটিতে তামান্নাকে বলতে শোনা যায়, জোর করে হোক কিংবা নিজের ইচ্ছায় হোক—যেভাবেই এসে থাকি, এসে তো পড়েছিই। এখন এখানেই থাকব।
সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে প্রকাশ্যে আসা ওই ভিডিওতে তামান্নাকে কয়েকজন নারীর সঙ্গে একটি কক্ষে বসা অবস্থায় দেখা যায় এবং দরজার পাশে অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মী আতিকুর রহমান মিয়াদকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা পুলিশ নিশ্চিত করতে পারেনি।
এর আগে রোববার রাতে হোসেনপুর উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের হাজিপুর বাজার এলাকায় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বরযাত্রীর মাইক্রোবাস থামিয়ে তামান্নাকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের তামান্নার সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার রাজাবাড়িয়া গ্রামের আক্তার মিয়ার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। পথিমধ্যে ২০-২৫ জন যুবক গাড়িটির গতি রোধ করে ভাঙচুর চালায় এবং চর হাজিপুর গ্রামের আতিকুর রহমান মিয়াদ ও তার সহযোগীরা তামান্নাকে নিয়ে পালিয়ে যায়। তাদের মধ্যে আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে গুঞ্জন রয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিও বার্তায় তামান্না আরও বলেন, আমি যদি এখন ফিরেও যাই, আমার মান-সম্মান ফেরত আসবে না, আমার বাবা-মার মান-সম্মানও আর ফিরে আসবে না। তাই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি এখানেই থেকে যাব।
হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত মামলা না হলেও পুলিশ ভুক্তভোগী তরুণীকে উদ্ধারে এবং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত আতিকুরের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হোসেনপুর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব দেলোয়ার হোসেন রাজীব জানান, আতিকুর রহমান ছাত্রদলের একজন কর্মী।
কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওসাদ জানান, বিষয়টি জানার পর তারা সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। এছাড়া জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব শহীদুল্লাহ কাইসার শহীদ এটিকে একটি গর্হিত অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে মেয়ের পরিবার আইনি পদক্ষেপ নিলে প্রশাসনকে সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জোই