মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে মা বানরের বুকের উষ্ণতায় ঘুমিয়ে থাকা ছানার দৃশ্য দেখে মুগ্ধ পর্যটক ও প্রকৃতিপ্রেমীরা। মানুষের মতোই ভালোবাসা, মায়া ও নিরাপত্তার বন্ধন যেন এখানে ফুটে উঠেছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে টিনের চালের ওপর বসে ছিল দুটি মা বানর। তাদের বুকের সঙ্গে প্রাণপণে আঁকড়ে আছে ২টি ছোট্ট ছানা। মা বারবার ছানার ছোট্ট শরীরটা চেটে দিচ্ছে। ময়লা লেগে থাকলে নিজের হাত দিয়ে মুছে দিচ্ছে। পাতার ফাঁক দিয়ে রোদ এসে পড়লে নিজের শরীর দিয়ে ছায়া দিচ্ছে। একটু বাতাসের শব্দ হলেই আতঙ্কে ছানাকে বুকের আরও গভীরে চেপে ধরছে। মনে হচ্ছিল, পৃথিবীর সব নিরাপত্তা ওই ছোট্ট বুকের ভেতর।
ক্ষুধার্ত মা খাবারের জন্য এদিক-ওদিক ছুটছে, তবুও এক সেকেন্ডের জন্যও ছানাকে কোল থেকে নামাচ্ছে না। উঁচু গাছের ডাল থেকে লাফ দেওয়ার সময় এক হাতে শক্ত করে ছানাকে ধরে রাখছে। কোনো বিপদ টের পেলেই বিদ্যুতের গতিতে ছানাকে বুকে জড়িয়ে গাছের আড়ালে লুকিয়ে পড়ছে।
বন বিভাগের গাইড বলেন, ‘লাউয়াছড়ায় রেসাস বানরের বড় দল থাকে। কিন্তু বর্ষা এলেই মা-ছানার এই দৃশ্য সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ার মতো।’
লাউয়াছড়া ঘুরতে আসা পর্যটক সুমাইয়া ইয়াসমিন জুই বলেন, ‘জঙ্গলে এসে এমন দৃশ্য দেখব ভাবিনি। মা যেভাবে ছানাকে আগলে আছে, একদম আমার মায়ের মতো। কাজের জন্য ৬ মাস ধরে মায়ের কাছে যেতে পারি না। আজ এই বানরের মাকে দেখে নিজের মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে। মায়ের ভালোবাসা আসলেই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।’
পাশে দাঁড়ানো এক নারী পর্যটক ছলছল চোখে বলেন, ‘আমরা মানুষ হয়েও অনেক সময় সন্তানকে সময় দিতে পারি না। আর ওরা দেখেন কীভাবে আগলে রেখেছে নিজের সন্তানকে। এতে প্রমান করে, মা ও সন্তানের ভালোবাসা পৃথিবীর সবচেয়ে গভীর সম্পর্ক।’
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের বন কর্মকর্তা বলেন, ‘এই উদ্যান শুধু গাছপালা না, এটা মা-সন্তানের সংসার। বানর, উল্লুক, হনুমানসহ অনেক প্রাণীর ঘর। আপনাদের কাছে অনুরোধ, ছবি তুলুন, কিন্তু দূর থেকে। ওদের মায়ের কোলের শান্তিটুকু কেড়ে নেবেন না।’
প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, এই দৃশ্যটি শুধু বিনোদন না। এটা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, মাতৃত্বের ভাষা সব প্রাণীর জন্যই সমান।
সময়ের আলো/মহু