চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ চ্যানেলে অসুস্থ রোগীসহ অ্যাম্বুলেন্স ও প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ যাত্রী নিয়ে গভীর রাতে প্রায় ৯ ঘণ্টা ডুবোচরে আটকে ছিল ‘ফেরি কপোতাক্ষ’। আবহাওয়া সতর্কতার কারণে ৪ দিন বন্ধ থাকার পর বুধবার সন্ধ্যায় সন্দ্বীপের গুপ্তছড়া ঘাট থেকে সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার পর মাঝনদীতে পলিমাটি ও ডুবোচরে আটকে পড়ে ফেরিটি। ভাটার কারণে সাগরে পানির স্তর কমে যাওয়ায় রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত ফেরিটি সেখানে অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকে।
পরে জোয়ার আসার পর পানির স্তর বাড়লে ফেরিটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে। রাত ৪টার দিকে বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটে পৌঁছালেও অতিরিক্ত জোয়ারের কারণে বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি ফেরি থেকে নামাতে আরও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। রাতের বেলা এমন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতিতে পড়ে অন্ধকার সাগরে থাকা যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।
মাঝনদীতে দীর্ঘসময় আটকে থাকায় ফেরিতে তীব্র খাবার ও পানীয় জলের সংকট দেখা দেয়। ক্যানটিনে পর্যাপ্ত খাবার না থাকায় এবং চা, বনরুটি ও বিস্কুটের মতো সীমিত কিছু খাবারের জন্য নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা রাখা হচ্ছে বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেন।
এক যাত্রী জানান, ১০ টাকার চানাচুরের প্যাকেট তার কাছ থেকে ২৫ টাকা রাখা হয়েছে। তবে, চরম এই দুর্ভোগের মধ্যে সন্দ্বীপের সংসদ সদস্য আটকে থাকা যাত্রীদের জন্য রাতে খাবার ও পানির ব্যবস্থা করেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা যাত্রীদের সহায়তায় রাতভর কাজ করেন।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের উপপরিচালক (পোর্ট অফিসার) নয়ন শীল উপকূলীয় এলাকায় ফেরি চলাচলের ক্ষেত্রে জোয়ার-ভাটা অনুযায়ী সময়সূচি নির্ধারণ না করার জন্য এবং মাস্টারের গাফিলতিকে এই ফেরি আটকে যাওয়ার মূল কারণ হিসেবে দায়ী করেছেন। তবে, অসুস্থ রোগীসহ অ্যাম্বুলেন্স থাকায় ফেরির মাস্টার যাত্রা শুরু করেছিলেন বলে জানা গেছে।
এছাড়া, সন্দ্বীপ চ্যানেল থেকে স্থলভাগের দিকে ড্রেজিং করে প্রায় ৩০০ মিটার ভেতরে পন্টুন স্থাপন করা হলেও নিয়মিত খনন না করায় ভরা জোয়ার ছাড়া পন্টুনে ফেরির প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় প্রায়ই এমন আটকে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৪ অক্টোবর ঠিক একই জায়গায় আটকে পড়েছিল ফেরি কপোতাক্ষ। তখন ২৫ ঘণ্টা পর ১৫ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে তিনটি টাগবোট দিয়ে ফেরিটিকে টেনে পানিতে ভাসানো হয়েছিল। নাব্যতাসংকট ও ড্রেজিংয়ের এই স্থায়ী সমস্যার কারণে প্রায়ই যাত্রীদের এমন চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
সময়ের আলো/মহু