বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নটি কোনো রাজনৈতিক আদর্শ বা আবেগনির্ভর বিষয় নয় বরং এটি জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্বের জন্য আঞ্চলিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থানকে শক্তিশালী করার প্রশ্ন। একটি আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র কখনো একক নির্ভরতার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে না বরং বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিজের কৌশলগত পরিসর প্রসারিত করে।
একটি রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অবস্থান পরিবর্তন করা যায় না কিন্তু চাইলে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সেটাকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা যায় এবং সেই অনুযায়ী দক্ষতা অর্জন করা যায়। যে রাষ্ট্র তার ভৌগোলিক অবস্থানের কৌশলগত গুরুত্ব বুঝতে পারে— সে রাষ্ট্র উন্নয়ন, বাণিজ্য, যোগাযোগ ও কূটনীতির নতুন পথ আবিষ্কার করে।
আর যে রাষ্ট্র তা পারে না সে অন্যদের ভূরাজনৈতিক কৌশলের উপকরণে পরিণত হয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ‘বাস্তববাদী’ দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের শেখায় যে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি অনেকাংশে নির্ভর করে তার অবস্থান, সংযোগ এবং কৌশলগত সক্ষমতার ওপর। বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী বাংলাদেশ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত এমন এক ভূগোল যা সঠিকভাবে কাজে লাগানো গেলে আমাদের দেশটি আঞ্চলিক বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন, সরবরাহ শৃঙ্খল এবং যোগাযোগ নেটওয়ার্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
তাই একুশ শতকের পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতায় বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো— আমরা কি আমাদের ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে জাতীয় স্বার্থে অর্থাৎ নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি নিশ্চিত করার শক্তিতে রূপান্তর করতে পারব? বৈশ্বিক শক্তির প্রতিযোগিতা, ভারত মহাসাগরকেন্দ্রিক কৌশলগত পুনর্বিন্যাস, বাণিজ্যিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পুনর্গঠন এবং আঞ্চলিক সংযোগের নতুন উদ্যোগগুলো এই প্রশ্নকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।
গণঅভ্যুত্থানোত্তর প্রথম গণতান্ত্রিক সরকারপ্রধানের চীন সফরের প্রেক্ষাপটে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের দিকে নতুন করে তাকাতে হবে। কারণ আজকের বিশ্বে চীন কেবল রাজনৈতিক ও সামরিক দিক দিয়ে একটি ক্ষমতাধর রাষ্ট্রই নয়; এটি বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি, বৃহত্তম উৎপাদন কেন্দ্র, অন্যতম বৃহৎ বাণিজ্যিক শক্তি এবং বৈশ্বিক অবকাঠামো বিনিয়োগের প্রধান উৎসগুলোর একটি। চীনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা বন্দর, রেলপথ, সড়ক, জ্বালানি ও শিল্প অবকাঠামো ইতিমধ্যে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের বহু দেশের অর্থনৈতিক মানচিত্র বদলে দিয়েছে।
ফলে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল রাষ্ট্রের জন্য চীনের সঙ্গে সম্পর্কের প্রশ্নটি কোনো রাজনৈতিক আদর্শ বা আবেগনির্ভর বিষয় নয় বরং এটি জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্বের জন্য আঞ্চলিক অবস্থান ও আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নিজস্ব অবস্থানকে শক্তিশালী করার প্রশ্ন। একটি আত্মবিশ্বাসী রাষ্ট্র কখনো একক নির্ভরতার মধ্যে নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখে না বরং বহুমাত্রিক অংশীদারিত্বের মাধ্যমে নিজের কৌশলগত পরিসর প্রসারিত করে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে সেই বৃহত্তর বাস্তবতার আলোকে দেখতে হবে যেখানে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর, শিল্পায়ন, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ একে অপরের পরিপূরক হয়ে জাতীয় সক্ষমতাকে শক্তিশালী করতে পারে।
বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিবেশে এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করার প্রশ্নটি তাই কেবল কূটনৈতিক সৌজন্যের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সিদ্ধান্ত।
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ‘বাস্তববাদী’ (রিয়েলিস্ট) তত্ত্ব আমাদের শেখায় যে, রাষ্ট্রসমূহের স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু থাকে না; আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কেন্দ্রে থাকে কেবল স্থায়ী জাতীয় স্বার্থ। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ‘অরাজক’ (এনার্কিক) কাঠামোয় প্রতিটি রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হলো নিজের নিরাপত্তা, সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং কৌশলগত সক্ষমতা নিশ্চিত করা। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পর্ক আবেগ, আদর্শ কিংবা সাময়িক রাজনৈতিক পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে নয় বরং জাতীয় স্বার্থের নিরিখে নির্ধারিত হয়। ব্রিটিশ রাষ্ট্রনায়ক লর্ড পামারস্টনের (১৭৮৪-১৮৬৫) বহুল উদ্ধৃত বক্তব্যও একই সত্যকে প্রতিফলিত করে।
অন্য রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের প্রকৃতি বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আমাদের কোনো শাশ্বত মিত্র নেই এবং কোনো চিরস্থায়ী শত্রুও নেই। আমাদের স্বার্থই শাশ্বত ও চিরস্থায়ী এবং সেই স্বার্থ অনুসরণ করাই আমাদের কর্তব্য’। প্রায় দুই শতাব্দী আগে উচ্চারিত এই বক্তব্য আজও আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও রাজনীতির অন্যতম মৌলিক নীতিবাক্য হিসেবে বিবেচিত হয়।
সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশেরও উচিত চীনকে দেখা আবেগ বা ভীতি দিয়ে নয় বরং জাতীয় স্বার্থের আলোকে। কোনো বৃহৎ শক্তির প্রতি অন্ধ সমর্থন যেমন একটি দায়িত্বশীল পররাষ্ট্রনীতির বৈশিষ্ট্য হতে পারে না— তেমনি অকারণ সন্দেহ বা রাজনৈতিক পূর্বধারণার বশবর্তী হয়েও দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে উপেক্ষা করা সমীচীন নয়।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও বহুমাত্রিক কূটনীতি গড়ে তোলা যা বিভিন্ন পরাশক্তির সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করবে— কিন্তু দেশের স্বাধীন নীতিনির্ধারণী সক্ষমতা ও নিরঙ্কুশ সার্বভৌমত্বকে কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন করবে না। অর্থাৎ সম্পর্কের গভীরতা নির্ধারিত হবে জাতীয় প্রয়োজনের ভিত্তিতে, কোনো পক্ষের প্রতি আনুগত্যের ভিত্তিতে নয়।
গত কয়েক বছরে বিশ্ব রাজনীতির কেন্দ্র ধীরে ধীরে আটলান্টিক অঞ্চল থেকে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সরে এসেছে। বৈশ্বিক উৎপাদন, সরবরাহ শৃঙ্খল, সামুদ্রিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুও ক্রমশ এই অঞ্চলে স্থানান্তরিত হচ্ছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়া, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং বঙ্গোপসাগরকে ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক ও কৌশলগত প্রতিযোগিতা গড়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ভারত, জাপান, ইউরোপীয় শক্তিসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র ও জোট এই অঞ্চলে নিজেদের প্রভাব বিস্তারে সক্রিয়।
এই নতুন বাস্তবতায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ, একই সঙ্গে অনেক বেশি স্পর্শকাতর। কারণ এই ভূখণ্ড এখন কেবল একটি জাতীয় ভূখণ্ড নয় বরং বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগ, সামুদ্রিক বাণিজ্য, অর্থনৈতিক করিডর এবং ভূরাজনৈতিক ভারসাম্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদানে পরিণত হয়েছে।
বাংলাদেশ একদিকে দক্ষিণ এশিয়ার অংশ, অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার প্রবেশদ্বার। বঙ্গোপসাগরের তীরবর্তী অবস্থান, স্থলবেষ্টিত উত্তর-পূর্ব ভারতের নিকটবর্তিতা এবং মিয়ানমারের মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে সংযোগস্থল— সব মিলিয়ে বাংলাদেশ একটি সম্ভাব্য আঞ্চলিক সংযোগকেন্দ্র। যদি এই ভৌগোলিক সুবিধাকে কার্যকর যোগাযোগ অবকাঠামো, আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্য, আধুনিক বন্দরব্যবস্থা, শিল্পায়ন এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তা হলে বাংলাদেশ কেবল একটি ট্রানজিট রাষ্ট্র নয় বরং একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কেন্দ্রস্থল বা মূলকেন্দ্রে (হাব) পরিণত হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।
এ দেশের ভূগোল তখন আর কেবল মানচিত্রের একটি অবস্থান হয়ে থাকবে না; সেটি জাতীয় সম্পদে রূপান্তরিত হবে। এই প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দুই দেশ তাদের সম্পর্ককে ‘সার্বিক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্ব’ (কম্প্রিহেন্সিভ স্ট্র্যাটেজিক কোঅপারেটিভ পার্টনারশিপ)-এ উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছিল এবং অবকাঠামো, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, কৃষি, স্বাস্থ্য ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে সম্মত হয়েছিল।
এই ঘোষণার তাৎপর্য ছিল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে প্রচলিত উন্নয়ন সহযোগিতার সীমা অতিক্রম করে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের কাঠামোয় নিয়ে যাওয়া। গণঅভ্যুত্থানোত্তর রাজনৈতিক পালাবদলের পর সাম্প্রতিক বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর এবং চীনা প্রধানমন্ত্রীর মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ-চীন সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব (তথা ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর’) সেই ধারাবাহিকতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।
বিশেষ করে স্থলপথে সরাসরি সংযোগ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা শুধু দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের সুযোগই সৃষ্টি করবে না বরং বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি কার্যকর স্থলভিত্তিক অর্থনৈতিক সেতুতে পরিণত করার নতুন দিগন্তও উন্মোচন করতে পারে। তাই এই সফরকে কেবল একটি নিয়মিত কূটনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে বরং এটি দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার এক সুবর্ণ সুযোগ যা বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার সঙ্গে কাজে লাগাতে পারলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক অবস্থান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হতে পারে।
আমাদের মনে রাখতে হবে যে, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন কেবল অবকাঠামো উন্নয়ন বা ঋণ গ্রহণ নয় বরং স্থলপথে সংযোগসহ বহুমাত্রিক সংযোগ (মাল্টি-ডাইমেনশনাল কনেক্টিভিটি) প্রতিষ্ঠা করা। কারণ একবিংশ শতাব্দীর বিশ্ব অর্থনীতিতে উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি শুধু পুঁজি নয় বরং সংযোগ। কারণ সংযোগই হলো উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মৌলিক সোপান।
একটি দেশের সড়ক, রেল, সমুদ্রবন্দর, স্থলবন্দর, ডিজিটাল অবকাঠামো, জ্বালানি নেটওয়ার্ক এবং আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যব্যবস্থা যতবেশি পরস্পর সংযুক্ত হবে, সেই দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, প্রতিযোগিতামূলক শক্তি এবং কৌশলগত গুরুত্বও তত বৃদ্ধি পাবে। আধুনিক উন্নয়ন অর্থনীতিতে এ কারণেই ‘সংযোগ সক্ষমতা’ (কনেক্টিভিটি)-কে কেবল যোগাযোগব্যবস্থা হিসেবে নয় বরং উৎপাদন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, জ্ঞান ও মানুষের চলাচলকে একীভূত করার একটি সামগ্রিক উন্নয়ন কাঠামো হিসেবে দেখা হয়।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে, যে অঞ্চল বাণিজ্যপথের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করে, সেই অঞ্চলই দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ ও লাভবান হয়। মধ্যযুগে সিল্ক রোড যেমন ইউরেশিয়ার অর্থনীতিকে চাঙ্গা ও রূপান্তর করেছিল, তেমনি আধুনিক যুগে সড়ক, রেল, সমুদ্রবন্দর, অর্থনৈতিক করিডর এবং বহুমাত্রিক সরবরাহ শৃঙ্খল উন্নয়নের নতুন ভিত্তি তৈরি করছে।
ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক উত্থানের পেছনে দেখা যায়, যে রাষ্ট্র বা অঞ্চল বাণিজ্য প্রবাহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে— সেখানেই শিল্পায়ন, নগরায়ণ, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং সম্পদ সঞ্চয় ও বিনিয়োগের গতি ত্বরান্বিত হয়েছে। তাই বর্তমান বিশ্বে সংযোগ অবকাঠামোতে বিনিয়োগকে কেবল উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে নয় বরং দীর্ঘমেয়াদি ভূঅর্থনৈতিক কৌশল হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
লেখক : ভিজিটিং ফ্যাকাল্টি, ইউনিভার্সিটি অব রোহ্যাম্পটন, যুক্তরাজ্য
মতামত লেখকের নিজস্ব
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে