বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতায় স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান জনগণের দোরগোড়ায় সেবা দিতে পারে। তবে দীর্ঘদিন ধরে এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন না হওয়ার কারণে স্থানীয় জনগণ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এ ছাড়া স্থানীয় প্রতিনিধিত্ব ও সরকারের কার্যক্রমে প্রভাব পড়ছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন (ইসি) সাড়ে চার হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠান এখন নির্বাচন উপযোগী বলে ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ। এই নির্বাচনের প্রস্তুতি চললেও সময়, আবহাওয়া, পরীক্ষা, ধর্মীয় উৎসব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কার্যক্রমে অগ্রগতি ধীরগতি হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনে সব প্রস্তুতি গুছিয়ে এনেছে নির্বাচন কমিশন। আগামী নভেম্বরে ছয় বা সাত ধাপে ইউনিয়ন পরিষদের ভোটের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে নির্বাচন উৎসব। এরপর ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের বাকি চার প্রতিষ্ঠান পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদ নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে সংস্থাটির।
ইসি সূত্র বলছে, এরই মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতিও প্রায় শেষ করেছেন তারা। ১৫ সেপ্টেম্বর তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। আর নভেম্বরের শেষভাগে প্রথম ধাপের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ করা হবে। সব ধাপের ভোটগ্রহণ আগামী বছরের শেষ নাগাদ সম্পন্ন হতে পারে।
দৈনিক সময়ের আলোয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়— ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী নভেম্বর থেকে মার্চ মাসের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে। এই সময়কালকে সবচেয়ে উপযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে বাস্তবতা হলো, দেশের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য, আবহাওয়া পরিস্থিতি ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিষয়গুলো এই পরিকল্পনাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে শিক্ষা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রমজান ও বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবের কারণে নির্বাচন কার্যক্রমের সময়সূচি নির্ধারণে জটিলতা দেখা দিয়েছে।
অতীতে বিভিন্ন ধাপে নির্বাচনের আয়োজন সফলভাবে সম্পন্ন হলেও সময়ের ব্যাপকতা ও জটিলতা এই প্রক্রিয়াকে দীর্ঘস্থায়ী করে তুলছে। ইউপির মতো স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় দুই বছর ধরে জনপ্রতিনিধিহীন অবস্থায় রয়েছে। নতুন গঠিত ইউনিয়নসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান দ্রুত নির্বাচন উপযোগী হলে, তা দেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন সময়মতো প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা।
নির্বাচন কমিশনের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসগুলো নির্বাচনের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত। এর মধ্যে নভেম্বর ও ডিসেম্বরের সময়কে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে ফেব্রুয়ারিতে রমজানের কারণে এ সময় নির্বাচন সম্ভব নয়। মার্চের শেষদিকে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে কিছু কিছু নির্বাচন করা যেতে পারে।
অবশ্য এই পরিকল্পনাগুলোর বাস্তবায়ন কেবল সরকারের বিষয় নয়; আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায়ই সম্ভব হবে সময়মতো নির্বাচন সম্পন্ন। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভৌগোলিক বৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে চ্যালেঞ্জও থাকবে। তবে দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক চর্চার স্বার্থে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।
দেশের মানুষ মনে করে সব রাজনৈতিক দল যদি সব পর্যায়ের নির্বাচনে অংশ নেয়, তা হলে এ রকম পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারবে ইসি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে সাংবিধানিক দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে পালন, যেকোনো নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠান করাও ইসির কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় ও প্রস্তুতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে বাস্তবতা ও পরিস্থিতির গুরুত্ব অপরিসীম। দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সময়মতো ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের জন্য সব পক্ষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকুক।
সময়ের আলো/প্রিন্টি/এসএক