সরকারি আদেশ ও রিলিজ অর্ডারকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদতরের (এলজিইডি) বিতর্কিত সহকারী প্রকৌশলী মো. ছানোয়ার হোসেন বদলির আড়াই সপ্তাহ পরও চেয়ার আঁকড়ে আছেন। বদলির স্পষ্ট নির্দেশনা এবং নবাগত কর্মকর্তা যোগদান করার পরও দাফতরিক দায়িত্ব হস্তান্তর না করে তিনি অবৈধভাবে বহাল রয়েছেন। শুধু তাই নয়, নবাগত কর্মকর্তাকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও ভুয়া পরিচয়ে হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
সরকারি নথি অনুযায়ী, গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে এলজিইডির প্রধান কার্যালয়ের এক অফিস আদেশে তাকে দেলদুয়ার উপজেলায় বদলি করা হয়। পরবর্তীতে ২৭ আগস্ট টাঙ্গাইল এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কার্যালয় থেকে তাকে আনুষ্ঠানিক রিলিজ অর্ডার (ছাড়পত্র) প্রদান করে অবিলম্বে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর পরিপ্রেক্ষিতে ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলা থেকে বদলি হয়ে আসা প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম গত ৩০ আগস্ট কালিহাতী কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। তবে প্রশাসনিক নিয়ম ভেঙে ছানোয়ার হোসেন তাকে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি; বরং নিজেই পূর্বের পদে বহাল থেকে দাফতরিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন, যা সরকারি চাকরি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব হস্তান্তর না করে নবাগত প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমকে এলাকা ছাড়তে নানামুখী চাপ ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি ‘দুদক কর্মকর্তা’ পরিচয়ে ভুয়া ফোন কল (০১৮১০৫৩২৩২১ ও ০১৮২৪৭৯৩৩৬) করিয়ে তাকে আতঙ্কিত করার চেষ্টা চালানো হয়েছে।
এর আগেও প্রকৌশলী ছানোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে সরকারি নানা প্রকল্পে অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ এবং কাজ না করেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে বিল পরিশোধের অভিযোগ উঠেছে, যা নিয়ে জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হয়। স্থানীয়দের মতে, একের পর এক বিতর্কের পরও প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার বেপরোয়া মনোভাব চূড়ান্ত রূপ নিয়েছে।
দায়িত্ব না ছাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে মো. ছানোয়ার হোসেন দাবি করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য তাকে কালিহাতীতে থাকার কথা বলেছেন এবং তার এই বদলি আদেশ বাতিল করা হবে।
তবে তার এই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়ে টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের সংসদ সদস্য মো. লুৎফর রহমান মতিন স্পষ্ট জানান, এলাকার কিছু মানুষ প্রকৌশলী ছানোয়ারকে রাখার অনুরোধ করেছিলেন। তবে আমি স্পষ্ট বলে দিয়েছি যে, সরকারি নিয়ম ও এলজিইডির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। এ বিষয়ে আমার কোনো সুপারিশ নেই।
সাংসদের বক্তব্যের পর ছানোয়ারের ক্ষমতার উৎস নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। রিলিজ হওয়ার পরও আইন অমান্য করে কর্মস্থলে অবস্থান করায় এলজিইডির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। এ বিষয়ে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন স্থানীয়রা।
সময়ের আলো/জোই