ডাকাতিয়া নদীর বোঝা কচুরিপানাই এখন কৃষকের আয়ের ভরসা

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

একসময় ডাকাতিয়া নদীতে কচুরিপানার বিস্তারকে সমস্যা হিসেবে দেখতেন স্থানীয় মানুষ। নৌচলাচলে বাধা সৃষ্টি করা এই জলজ উদ্ভিদ এখন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ

2026-09-06T09:16:26+00:00
2026-09-06T09:16:26+00:00
 
  রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২২ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
ডাকাতিয়া নদীর বোঝা কচুরিপানাই এখন কৃষকের আয়ের ভরসা
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:১৬ এএম 
ডাকাতিয়া নদীর বোঝা কচুরিপানাই এখন কৃষকের আয়ের ভরসা। ছবি : সময়ের আলো
একসময় ডাকাতিয়া নদীতে কচুরিপানার বিস্তারকে সমস্যা হিসেবে দেখতেন স্থানীয় মানুষ। নৌচলাচলে বাধা সৃষ্টি করা এই জলজ উদ্ভিদ এখন চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার অনেক কৃষকের কাছে আয়ের উৎস। কচুরিপানা দিয়ে ভাসমান বেড তৈরি করে সেখানে সবজি ও চারা উৎপাদন করছেন কৃষকেরা।

ফরিদগঞ্জ উপজেলার শোভান এলাকার জলাবদ্ধ স্থানে কয়েক বছর ধরে চলছে এ ধরনের কৃষিকাজ। স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগে তৈরি ভাসমান বেডে লাউ, কুমড়া, লালশাকসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত সবজি স্থানীয় বাজারে বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে চারা সরবরাহও করা হচ্ছে।

Advertisement
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কৃষক শহিদ তালুকদারের উদ্যোগে এলাকায় ভাসমান বেডে সবজি চাষ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে অন্য কৃষকেরাও এ পদ্ধতিতে আগ্রহী হন। বর্তমানে শোভান গ্রামে প্রায় ১০০ থেকে ১১০ জন কৃষক ভাসমান বেডে সবজি চাষ করছেন।

কৃষক শহিদ তালুকদার বলেন, এ বছর তিনি ৬০টি ভাসমান বেড তৈরি করেছেন। বেড তৈরিসহ অন্যান্য কাজে তার প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। মৌসুম শেষে সবজি বিক্রি করে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, একসময় নদীর কচুরিপানা তেমন কোনো কাজে লাগত না। এখন সেই কচুরিপানা সংগ্রহ করে বেড তৈরি করা হচ্ছে। সেখানে উৎপাদিত সবজি বিক্রি করে বাড়তি আয় হচ্ছে। পরিবারের প্রয়োজনীয় সবজির একটি অংশও এসব বেড থেকে পাওয়া যায়।

কৃষকদের হিসাবে, বেডের আকার ও উৎপাদিত ফসলের ধরন অনুযায়ী খরচ ও আয় ভিন্ন হয়। তবে একটি বড় ভাসমান বেড তৈরিতে কয়েক হাজার টাকা ব্যয় হলেও মৌসুম শেষে সেখান থেকে খরচের তুলনায় ভালো আয় করা সম্ভব।


মৌসুম শেষে কচুরিপানার এসব বেডেরও রয়েছে ব্যবহার। পচে যাওয়া কচুরিপানা জমিতে জৈবসার হিসেবে ব্যবহার করেন কৃষকেরা। ফলে একদিকে সবজি উৎপাদন হচ্ছে, অন্যদিকে জমির জন্য মিলছে জৈবসারের উপকরণ।

তবে কৃষক মো. রাব্বি ও মো. রাজিব ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা দীর্ঘ বছর ভাসমান বেডে সবজি চাষ করে আসছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো প্রকার সহযোগিতা পাইনি, এখানকার কৃষি কর্মকর্তা তার পছন্দের লোকদের সরকারি সব সুবিধা দেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার বলেন, ফরিদগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জলাবদ্ধ এলাকায় ভাসমান বেডে সবজি ও চারা উৎপাদন করা হয়। এ প্রযুক্তির আওতায় বিভিন্ন কৃষককে প্রদর্শনী ও অন্যান্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ভাসমান বেডে উৎপাদিত চারাগুলো ফরিদগঞ্জের বাইরে চাঁদপুরের বিভিন্ন উপজেলাসহ পার্শ্ববর্তী লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লার কিছু উপজেলাতেও সরবরাহ করা হয়। প্রাথমিকভাবে বেড তৈরিতে কিছুটা বেশি ব্যয় হলেও উৎপাদন ও বিক্রি থেকে তুলনামূলক ভালো আয় পাওয়া যায়।


কৃষি কর্মকর্তা কল্লোল কিশোর সরকার আরও বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় যে সহায়তা পাওয়া যায়, তা কৃষকদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এ এলাকায় ভাসমান বেডে কৃষি সম্প্রসারণে আরও প্রকল্প ও সরকারি সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন। প্রকল্পের পরিধি বাড়ানো গেলে আরও বেশি কৃষক এ পদ্ধতিতে চাষাবাদের সুযোগ পাবেন।

স্থানীয় কৃষকদের দাবি, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, আধুনিক প্রযুক্তি ও সরকারি সহায়তা বাড়ানো গেলে ভাসমান বেডে সবজি ও চারা উৎপাদন আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে জলাবদ্ধ এলাকার অনাবাদি স্থান কাজে লাগানোর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।

একসময় যে কচুরিপানা নদীর বোঝা হিসেবে পরিচিত ছিল, এখন সেই কচুরিপানাই ফরিদগঞ্জের কৃষকদের কাছে সম্ভাবনার নতুন উপকরণ। জলাবদ্ধ জমি ও নদীর কচুরিপানাকে কাজে লাগিয়ে ভাসমান বেডে সবজি চাষে বদলাচ্ছে স্থানীয় কৃষির চিত্র।

সময়েরে আলো/জোই
  বিষয়:   ডাকাতিয়া নদী  কচুরিপানা  কৃষক  আয়  ফরিদগঞ্জ  চাঁদপুর  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: