কাতারে বোমা হামলা চালানোর কথা গর্বের সঙ্গে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে গাজায় পাঠানো কাতারের কোটি কোটি ডলার মানবিক সহায়তার কাজে ব্যবহৃত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ইসরায়েলি নিউজ চ্যানেল আই২৪নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু কাতারকে একটি ‘শত্রুভাবাপন্ন’ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেন।
নেতানিয়াহু বলেন, আমি কাতারে হামলা চালিয়েছি, বোমা মেরেছি এবং যুদ্ধের সময় তাদের ওপর আক্রমণ করেছি এবং তারাও পাল্টা হামলা চালিয়েছে ।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দোহায় হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্য এবং কাতারের একজন নিরাপত্তাকর্মী নিহত হন। হামাসের সদস্যরা তখন যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থিত গাজা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা করছিলেন।
দোহা ওই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এটিকে ‘আন্তর্জাতিক আইন ও রীতিনীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছিল। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি হামলাটিকে ‘কাপুরুষোচিত’ বলে মন্তব্য করেন।
ইরান ও পাকিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশও ওই হামলার নিন্দা জানায়। হামলার পর জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের নেতারা কাতার সফর করে দেশটির প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও ওই হামলাকে কাতারের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার ‘চরম লঙ্ঘন’ বলে উল্লেখ করেন।
পরে হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকের সময় নেতানিয়াহু ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান বিন জাসিম আল থানিকে ফোন করে হামলার জন্য ক্ষমা চান।
গাজায় কাতারের অর্থ সহায়তা নিয়ে নেতানিয়াহুর বক্তব্য
আই২৪নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারের অর্থ পাঠানোর বিষয়টিও সমর্থন করেন নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, এসব অর্থ মানবিক সহায়তার জন্য পাঠানো হয়েছিল এবং ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও নিরাপত্তা সংস্থা শিন বেত-এর সুপারিশের ভিত্তিতেই অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছিল।
নেতানিয়াহু বলেন, এই পুরো অর্থ গাজায় প্রবেশ করা মোট অর্থের মাত্র ২ শতাংশ।
তবে নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা অভিযোগ করে আসছেন, কাতারের পাঠানো অর্থ হামাসকে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রস্তুতিতে সহায়তা করেছিল।
কাতার অবশ্য এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দেশটির দাবি, হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং তাদের সব সহায়তা কঠোর নজরদারি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গাজার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ গত বছরের দোহা ফোরামে বলেন, কাতারের সব সহায়তা গাজায় এবং সেখানকার মানুষের কাছে পৌঁছে গেছে। এই প্রক্রিয়া সম্পর্কে যুক্তরাষ্ট্রও পুরোপুরি অবগত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচনের আগে চাপ বাড়ছে নেতানিয়াহুর ওপর
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ২০২৩ সালে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর এটিই দেশটির প্রথম সাধারণ নির্বাচন।
নির্বাচন সামনে রেখে নেতানিয়াহু সরকারের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ছে। গাজা যুদ্ধ পরিচালনা, দেশের অর্থনীতি এবং ইরানের সঙ্গে সংঘাত, এসব বিষয় নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।
বিশ্লেষক ও সমালোচকদের মতে, নির্বাচনের আগে জাতীয়তাবাদী সমর্থন বাড়াতে নেতানিয়াহু অতীতেও বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়িয়েছেন।
সূত্র : আল-জাজিরা
সময়ের আলো/ইউএমএইচ