ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার-সমর্থিত বাহিনী ও ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষে অন্তত ১৪১ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ভোর পর্যন্ত কয়েকটি ফ্রন্টে চলা সংঘর্ষে এ প্রাণহানি ঘটে।
সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর দুই সামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওই সময়ে তাদের অন্তত ৮৪ সৈন্য নিহত হয়েছেন। তাঁদের অধিকাংশই রকেট হামলায় প্রাণ হারান।
অন্যদিকে, চারটি হুথি সূত্রের দাবি, একই সময়ে তাদের ৫৭ যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। সে হিসাবে এক দিনেরও কম সময়ের সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মোট ১৪১ জন নিহত হয়েছেন।
দক্ষিণ-পশ্চিম ইয়েমেনের একাধিক ফ্রন্টে, বিশেষ করে তায়েজ ও হোদাইদা প্রদেশ এবং লোহিত সাগর উপকূলে সাম্প্রতিক সময়ে হঠাৎ করে লড়াই বেড়ে গেছে। সামরিক সূত্রগুলো বলছে, সংঘর্ষের তীব্রতার কারণেই প্রাণহানির সংখ্যা এত বেশি।
রোববার এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী জানায়, হোদাইদার দক্ষিণে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হাইস জেলার নিয়ন্ত্রণ হুথিদের কাছ থেকে পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। হাইস জেলা হোদাইদা, তায়েজ ও ইব্ব প্রদেশের সংযোগকারী সড়কের কাছে অবস্থিত।
সরকারি বাহিনী জানিয়েছে, তারা পার্শ্ববর্তী আল-জারাহি জেলাতেও পাল্টা হামলা চালিয়েছে এবং সেখানে কয়েক ডজন হুথি যোদ্ধাকে আটক করেছে। তায়েজ ও লাহজের আশপাশেও সংঘর্ষ ও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় অস্ত্রবিরতি কার্যকর হওয়ার পর ইয়েমেনের সংঘাত অনেকটা স্তিমিত হয়ে এসেছিল। যদিও ওই আনুষ্ঠানিক অস্ত্রবিরতির মেয়াদ বছরের শেষ দিকে শেষ হয়ে যায়, এর পরও কয়েক বছর দেশটিতে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ দেখা যায়নি। তবে গত কয়েক সপ্তাহে কয়েকটি প্রদেশে নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় সেই আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছে।
ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, তায়েজ ও হোদাইদায় হুথিদের অবস্থান, যানবাহন ও সমাবেশ লক্ষ্য করে শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) অন্তত ১৫টি বিমান হামলা চালানো হয়। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করা কৌশলগত সমুদ্রপথ বাব-এল-মানদেব প্রণালির দিকে হুথিরা বড় ধরনের অভিযান চালানোর পর এসব হামলা চালানো হয় বলে সামরিক সূত্র জানিয়েছে।
নতুন করে সংঘাত বাড়ায় বেসামরিক নাগরিকদেরও বাস্তুচ্যুত হতে হচ্ছে। জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা বিষয়ক সমন্বয়কারী দপ্তর (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, তায়েজে সংঘাত বৃদ্ধির পর দুই দিনে প্রায় ১ হাজার ৮০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
২০১৪ সালে ইরান-সমর্থিত হুথিরা রাজধানী সানা দখল করে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সেখান থেকে বিতাড়িত করলে ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়। এর পরের বছর হুথিদের বিরুদ্ধে হস্তক্ষেপ করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।
বর্তমানে হুথিরা রাজধানী সানা এবং ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো দেশের দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে।
সময়ের আলো/এসএকে