বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে যে কজন পরিচ্ছন্ন, পরিশ্রমী, সৎ এবং সজ্জন সংগঠক রয়েছেন এসএস খালেকুজ্জামান তাদের অন্যতম। যিনি হ্যান্ডবলের স্বপন নামে সবার কাছে পরিচিত, সমাদৃত। চার দশকেরও বেশি সময় ধরে হ্যান্ডবলের সঙ্গে জড়িত। প্রথমে খেলোয়াড়, এরপর ক্লাব কর্মকর্তা থেকে বর্তমানে বাংলাদেশ হ্যান্ডবল ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
স্কুলজীবনে সেই আশির দশকে হ্যান্ডবলের সঙ্গে সখ্য শুরু হলেও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে জীবনে পুরোদস্তুর খেলোয়াড়, পরে নব্বই দশকের মাঝামাঝিতে ক্লাব কর্মকর্তা— এভাবে দীর্ঘ পরিক্রমার মধ্য দিয়ে জীবনের পুরোটা সময়ই হ্যান্ডবলে পার করেছেন। মাঝে ২০২৪-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সময়ে গড়া অ্যাডহক কমিটিতে ছিলেন না। ১৮ মাস মাঠের বাইরে থেকে চলতি বছরের জুলাইয়ে আবারও পুরোনো দায়িত্ব অর্থাৎ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের পদে ফিরেছেন খালেকুজ্জামান স্বপন। আর প্রিয় প্রাঙ্গণ হ্যান্ডবলে ফিরেই নতুন উদ্যমে আবারও কাজে নেমে পড়েছেন।
বাংলাদেশে ফেডারেশনের সংখ্যা অগণিত। তবে মাঠের কার্যক্রমে অনেকেই নিজেদের নামের প্রতি সুবিচার করতে পারেনি। এ ক্ষেত্রে হ্যান্ডবল সর্বদাই ব্যতিক্রম। বছরজুড়েই এই ফেডারেশনের কোনো না কোনো কার্যক্রম চলমান থাকেই। সারা বছর মাঠে খেলা চালিয়ে সবার সুনাম বহু আগেই কুড়িয়েছে হ্যান্ডবল ফেডারেশন। সামনে আরও বড় কার্যক্রম নিয়ে আসছে। বাংলাদেশের রাজনীতিতে অবিসংবাদিত নেতা, বিএনপির চেয়ারপারসন এবং তিনবারের প্রধানমন্ত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার খেলাধুলায় যে অবদান সেটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দিতে এবার নতুন উদ্যোগ নিয়েছে হ্যান্ডবল ফেডারেশনের বর্তমান অ্যাডহক কমিটি।
বেগম খালেদা জিয়ার নামে অক্টোবরের ১৮-২২ তারিখ পর্যন্ত জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে আন্তর্জাতিক আসর। ৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টটির নাম হলো ‘বেগম খালেদা জিয়া আইএইচএফ ওমেন্স সিনিয়র ট্রফি’। স্বাগতিক বাংলাদেশ ছাড়াও এতে অংশ নেবে ভারত, মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, আফগানিস্তান এবং ইয়েমেন। এর মধ্যে ৬ দল আসরে অংশ নিতে ইতিমধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে। হ্যান্ডবলের জনপ্রিয় কর্তাব্যক্তি খালেকুজ্জামান স্বপন এই টুর্নামেন্টে কো-অর্ডিনেটরের দায়িত্বে থাকছেন। সময়ের আলোর সঙ্গে আলাপনে এমনটাই জানান হ্যান্ডবলের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।
হ্যান্ডবলের নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই আন্তর্জাতিক আসর গড়াতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। সেখানে আবার স্বপন থাকছেন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। যদিও এর আগে বহু আসরে বড় বড় দায়িত্বে ছিলেন। নতুন কমিটি এবং নতুন দায়িত্ব সম্পর্কে সময়ের আলোর পক্ষ থেকে প্রশ্ন করা হলে জবাবে স্বপন বলেন, ‘হ্যান্ডবলের সঙ্গে জড়ানোর পর একটি দিনও মাঠের বাইরে, স্টেডিয়াম কিংবা প্রিয় হ্যান্ডবল থেকে দূরে ছিলাম না। বলতে পারেন এটিই আমার জীবন, আমার সন্তান, আমার ঘরবাড়ি-সংসার। তবে আসিফ মাহমুদের সময় গঠিত অ্যাডহক কমিটিতে আমি ছিলাম না। ওই ১৮ মাস মাঠের বাইরে ছিলাম। ওই সময় একটা রাতও ঠিকমতো ঘুমাতে, খেতে পারিনি। মনে হয়েছে আমার শরীরের কোনো অঙ্গ বোধহয় কেটে নেওয়া হয়েছে। ভীষণ মিস করেছি আমার প্রিয় হ্যান্ডবল, আমার প্রিয় সহকর্মী ভাই-বন্ধু, মিডিয়ার ভাই-বোনদের, আমার সন্তানতুল্য খেলোয়াড়দের।
তিনি আরও যোগ করেন, ‘বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমাদের সবার প্রিয় ব্যক্তিত্ব আমিনুল হক ভাই, সহযোদ্ধা প্রিয় রেদওয়ান ভাই, ক্রীড়া পরিষদের যোগ্য ডিরেক্টর (স্পোর্টস) জাহেদ পারভেজ ভাই— সবার প্রতি আমার অনিঃশেষ ধন্যবাদ, কৃতজ্ঞতা আমাকে আবারও কাজের সুযোগ করে দিয়েছেন তারা। আমি আমার কাজের মাধ্যমে ওনারা যে দায়িত্ব দিয়েছেন সেটা অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। হ্যান্ডবলকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাব।’ সময়ের আলোকে স্বপন আরও জানান, ‘বর্তমান যে কমিটি এবার গঠিত হয়েছে এখানে যোগ্যদেরই রাখা হয়েছে। আমাদের মতো সিনিয়র সদস্য যেমন রয়েছেন, তেমনি জুনিয়র সদস্যরাও আছেন। আমাদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে আমরা সবাই মিলে হ্যান্ডবলকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করব। তৃণমূলে আরও বেশি করে কাজ করব।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি