ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের আগানগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কদমতলী এলাকায় ১৪ দিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দিনের পর দিন গ্যাস সরবরাহ না থাকায় রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজ করতে গলদঘর্ম হতে হচ্ছে স্থানীয় বাসিন্দাদের। সবমিলিয়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকার হাজারো বাসিন্দা। বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করায় বাড়তি খরচের বোঝা বহন করতে হচ্ছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে।
এ প্রসঙ্গে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন জোন-৫, জিনজিরা অফিসের ম্যানেজার প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র বলেন, বাসাবাড়িতে চুলার জন্য সরবরাহ করা গ্যাসের চাপ খুব কম। গৃহস্থালির ক্ষেত্রে প্রায় ২০-৩০ এমবিএআর বা পাইপলাইনের প্রেসার ১০-১২ থাকে। বর্তমানে কেরানীগঞ্জের গ্যাস লাইনের প্রেশার আছে মাত্র ২। এ কারণে কেউ গ্যাস পাচ্ছে না। তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন জোন-৫, জিনজিরা অফিসের ম্যানেজার প্রকৌশলী বিধান চন্দ্র আরও বলেন, গ্যাস সংকটের কারণে বড় ফ্যাক্টরিগুলো বন্ধ রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, কেরানীগঞ্জে তিতাসের বৈধ গ্রাহকের চেয়ে অবৈধ গ্রাহকের সংখ্যা বেশি। ২০১৬ সালে কেরানীগঞ্জে বৈধ গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর গত ১৫ বছরে মিল-ফ্যাক্টরি থেকে শুরু করে ওয়াশিং প্লান্ট ও বহুতল ভবনে অবৈধ সংযোগ দিয়েছে কতিপয় অসাধু চক্র। এ কারণে সারা বছরই গ্যাসের সংকট লেগে থাকে। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে একেবারেই গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
এদিকে গ্যাস সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক করার দাবিতে সম্প্রতি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের কেরানীগঞ্জ জোনাল অফিসের মহাব্যবস্থাপক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছেন কদমতলী এলাকাবাসী।
স্মারকলিপিতে এলাকাবাসী উল্লেখ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে তিতাস গ্যাসের বৈধ গ্রাহক হিসেবে নিয়মিত বিল পরিশোধ করে আসছেন। কিন্তু সম্প্রতি হঠাৎ করেই তাদের বাসাবাড়িতে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে রান্নাবান্না থেকে শুরু করে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে সিলিন্ডার গ্যাস কিনে রান্নার কাজ চালাতে হচ্ছে। এতে পরিবারের মাসিক ব্যয় বেড়ে গেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এ বাড়তি ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়োবৃদ্ধদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্যাস সংকট নিরসনের দাবিতে তারা ইতিমধ্যে শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছেন। বিষয়টি গণমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে। এরপরও গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে বৈধভাবে বিল পরিশোধ করেও গ্যাস না পাওয়া অত্যন্ত দুর্ভোগের বিষয়। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে ভোগান্তি আরও বাড়বে।
স্মারকলিপিতে অবিলম্বে কদমতলী এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সচল করে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। কদমতলী এলাকাবাসীর পক্ষে স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেন মো. আকরাম হোসেন। এ সময় হাজি লিটন, মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম জহিরসহ এলাকার শতাধিক ভুক্তভোগী উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি