সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সীমানাঘেঁষা ৩ নম্বর খাদিমনগর ইউনিয়নে দ্রুত বাড়ছে জনবসতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, পর্যটনকেন্দ্র, হোটেল-রিসোর্ট, চা-বাগান, বাজার ও পাথর ব্যবসাকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক এলাকায় পরিণত হচ্ছে ইউনিয়নটি। তবে নগরায়ণের এই গতি অনুযায়ী নাগরিক সুবিধা ও অবকাঠামো গড়ে না ওঠার মধ্যেই হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ের প্রতিবাদে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মানববন্ধন করেন এলাকাবাসী। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন নজরুল ইসলাম, রহমত আলী, রাজু আহমেদ, পারভেজ আহমদ, আব্দুল করিম, কাওসার আহমদসহ অনেকেই।
মানববন্ধনে বক্তারা হোল্ডিং ট্যাক্স আদায়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে তা বন্ধের দাবি জানান। তাদের বক্তব্য, কর আদায়ের আগে ইউনিয়নবাসীকে প্রয়োজনীয় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে করের অর্থ কোন খাতে ব্যয় হচ্ছে এবং কর নির্ধারণের ভিত্তি কী, তা স্পষ্ট করার দাবি জানান তারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, হোল্ডিং ট্যাক্সের নামে ইউনিয়নে ‘নীরব চাঁদাবাজি’ চলছে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. দিলোয়ার হোসেনের বক্তব্য, আইন মেনেই হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ শুধু কর আদায় নিয়ে নয়। তাদের মতে, দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদিমনগরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ড্রেনেজ, পানি নিষ্কাশন, সড়ক ও অন্যান্য নাগরিক সুবিধা এখনও পর্যাপ্ত নয়।
ইউনিয়ন পরিষদের অনলাইন তথ্য অনুযায়ী, খাদিমনগরের আয়তন ৭৮ দশমিক ১৬ বর্গকিলোমিটার। ইউনিয়নটির দক্ষিণ সীমানা সিলেট সিটি করপোরেশনের সঙ্গে যুক্ত। এখানে ৮৬টি গ্রাম, ১৫টি হাটবাজার, ৫৪টি পাকা ও ১৮টি কাঁচা সড়ক রয়েছে।
এদিকে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ, পর্যটন ও আতিথেয়তা খাতের বিস্তার, হোটেল-রিসোর্ট, বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং ধোপাগুল এলাকার পাথর ব্যবসাকে ঘিরে খাদিমনগরে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ছে। ফলে ভবিষ্যতে জনসংখ্যা, যানবাহন ও বাণিজ্যিক চাপ আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এই বাস্তবতায় খাদিমনগরকে আর শুধু একটি গ্রামীণ ইউনিয়ন হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না। এখনই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক যোগাযোগ এবং পানি নিষ্কাশনের অবকাঠামো উন্নত করতে হবে।
একই সঙ্গে হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে তৈরি হওয়া প্রশ্নেরও স্বচ্ছ সমাধান চান বাসিন্দারা। তাদের দাবি, ইউনিয়নের মোট হোল্ডিং সংখ্যা, কর নির্ধারণের পদ্ধতি, আদায়ের পরিমাণ এবং আদায়কৃত অর্থ কোন কোন খাতে ব্যয় করা হচ্ছে, এসব তথ্য প্রকাশ করা হোক।
চেয়ারম্যান দিলোয়ার হোসেন বলেন, আইন মেনেই কর আদায় করা হচ্ছে। ফলে কর আদায়ের আইনগত ভিত্তি ও নির্ধারিত হার, পাশাপাশি নাগরিক সেবার বিপরীতে পরিষদের কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশ করা হলে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের প্রশ্নেরও পরিষ্কার উত্তর মিলবে।
দ্রুত নগরায়ণের বাস্তবতায় খাদিমনগরে নাগরিক সুবিধার আধুনিকায়নের পাশাপাশি কর আদায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এখন স্থানীয়দের অন্যতম দাবি।
সময়ের আলো/জোই